‘তারেক জিয়ার নির্দেশে আহসান উল্লাহ মাস্টারকে হত্যা করা হয়’

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘তারেক জিয়ার (তারেক রহমান) নির্দেশেই সুপরিকল্পিতভাবে জনপ্রিয় শ্রমিকনেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার এমপিকে হত্যা করা হয়েছিল। বাংলার মানুষ এ হত্যাকাণ্ড মেনে নিতে পারেনি বলেই সেদিন গাজীপুরকে অচল করে দিয়েছিল।’

শনিবার (৭ মে) গাজীপুর মহানগরে আহসান উল্লাহ মাস্টারের ১৮তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।

খালিদ মাহমুদ বলেন, ‘আহসান উল্লাহ মাস্টারের স্বপ্ন ছিল শ্রমিক সমাজের অধিকার। আজ বাংলার মাটিতে তার স্বপ্ন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের মান মর্যাদা বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর রক্ত বৃথা যায়নি। বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার হয়েছে, কিন্তু হত্যাকারীরা নির্মূল হয়নি। তাদেরকে নির্মূল করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘২০০১-২০০৬ সাল ছিল বাংলাদেশের অন্ধকার যুগ। গ্রেনেড হামলা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তিনি বেঁচে আছেন, কিন্তু আইভি রহমানসহ ২৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে। সে সময় শায়খ আবদুর রহমান, বাংলা ভাই সৃষ্টি করা হয়েছিল। এমপিদের হত্যা করা হয়েছে।’

বিএনপি দেশের উন্নয়নে খুশি হতে পারে না উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তারা এখনও বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বাংলার মানুষ বিএনপির রাজনীতিকে ঘৃণা করে। বাংলাদেশে তাদের রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হবে না।’

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ, সংরক্ষিত আসনের এমপি শামসুন্নাহার ভূঁইয়া, রুমানা আলী টুসি, গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জামিল হাসান দুর্জয় প্রমুখ।

আহসান উল্লাহ মাস্টার ২০০৪ সালের ৭ মে টঙ্গীর নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমাবেশ চলাকালে সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত হন। ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল দ্রুত বিচার আইনে আহসান উল্লাহ মাস্টার এমপি হত্যা মামলার রায় দেওয়া হয়। ওই রায়ে ৩০ আসামির মধ্যে প্রধান আসামি বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ জনকে ফাঁসি ও ছয় জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুই জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।