গাজীপুরের শ্রীপুরে স্ত্রী আফরিনা সুলতানার (১৮) লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী শাহীন আলম। শনিবার (২৩ জুলাই) রাত ৮টার দিকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্ত্রীর লাশ ফেলে রেখে যান তিনি। এ ঘটনায় আফরিনার শাশুড়ি নুরুন্নাহারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আফরিনা সুলতানা নেত্রকোনা সদর উপজেলার ঠাকুরকোনা গ্রামের মৃত রহমত আলীর মেয়ে। তিনি নোমান শিল্প গ্রুপের হিলাবেড়াইদ এলাকার জোবায়ের পোশাক কারখানায় শ্রমিকের চাকরি করতেন। স্বামী শাহীন আলম নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার কামতলা গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে। শাহীন মেঘনা শিল্প গ্রুপের স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকের চাকরি করেন।
আফরিনার বড় ভাই খায়রুল ইসলাম বলেন, সন্ধ্যায় বোনের অসুস্থতার খবর পেয়ে আসপাড়া এলাকার ভাড়া বাসায় গিয়ে কাউকে পাইনি। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারি ছোটবোন আফরিনাকে তার স্বামী শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেছে। দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে বোনের লাশ দেখতে পাই।
তিনি বলেন, স্বামী ও শাশুড়ি আমার বোনকে নির্যাতন করে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে প্রচার করেছে। হত্যার পর হাসপাতালে বোনের লাশ ফেলে পালিয়ে গেছে শাহীন।
আফরিনার স্বজনদের বরাত দিয়ে শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, প্রায় তিন মাস আগে শাহীন আলমের সঙ্গে আফরিনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শাহীন, তার মা নুরুন্নাহার ও স্ত্রীকে নিয়ে শ্রীপুর পৌরসভার ১ নম্বর সিঅ্যান্ডবি আসপাড়া এলাকার আফতাব উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। স্বামী-স্ত্রী পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। ছোটখাটো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আফরিনার সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া করতেন শাশুড়ি। সুরতহাল প্রতিবেদনে আফরিনার থুতনির নিচে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আসমাউল হুসনা বলেন, দুজন লোক ওই গৃহবধূর লাশ রেখে পালিয়ে গেছে। হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গৃহবধূর শাশুড়ি নুরুন্নাহারকে আটক করা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে, এটি হত্যা না আত্মহত্যা।