টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ ও হত্যার পাঁচ বছর আজ। নিম্ন আদালতের রায়ে চার জনের ফাঁসির আদেশ হলেও প্রায় সাড়ে চার বছরেও হাইকোর্টে আপিল শুনানি শুরু হয়নি। দীর্ঘদিনেও রায় কার্যকর না হওয়ায় হতাশ রূপার স্বজনরা। তারা দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।
জাকিয়া সুলতানা রূপা সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আসানবাড়ি গ্রামের জেলহক প্রামাণিকের মেয়ে।
২০১৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া অভিযুক্ত বাসের শ্রমিক শামীম (২৬), আকরাম (৩৫), জাহাঙ্গীর (১৯) ও চালক হাবিবুরের (৪৫) ফাঁসির আদেশ দেন। এছাড়া সুপারভাইজার সফর আলীকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়। নিম্ন আদালতে মাত্র ছয় মাসের মাথায় এ মামলার বিচারকাজ শেষ হয়েছিল।
রূপার ছোট ভাই রুমান উজ্বল প্রামাণিক বলেন, ‘নিম্ন আদালতে মামলার রায় হয়েছে প্রায় সাড়ে চার বছর। রায়ের পরপরই আসামিরা উচ্চ আদালতে আপিল করে। আপিলের পর দীর্ঘদিন কেটে গেলেও এখন পর্যন্ত শুনানি শুরু হয়নি। যতদিন পর্যন্ত রায় না কার্যকর হবে, ততদিন পর্যন্ত আমার বোনের আত্মা শান্তি পাবে না। আমরা চাই দ্রুত শুনানি শেষে রায় কার্যকর হোক।’
রূপা হত্যা মামলার রায়ের পরও থামেনি শাহজাহানের দৌড়তিনি আরও বলেন, ‘আমার বোনের হত্যা মামলার আসামিদের রায় দ্রুত কার্যকর হলে মধুপুরে আবার চলন্তবাসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটতো না। আর যেন কোনও বোন ধর্ষণ ও খুনের শিকার না হন, এজন্য রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি।’
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা শেষে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে ছোয়া পরিবহনের চলন্তবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বেসরকারি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি ও কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে। এরপর তার লাশ টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় পঁচিশ মাইল এলাকায় বনের মধ্যে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় ধর্ষকেরা। এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে মধুপুর থানা পুলিশ ওই রাতেই রূপার লাশ উদ্ধার করে। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরেরদিন পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি দেখে তার ভাই হাফিজুর রহমান মধুপুর থানায় গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন। ২৮ আগস্ট এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ময়মনসিংহ-বগুড়া সড়কের ছোয়া পরিবহনের হেলপার শামীম, আকরাম, জাহাঙ্গীর, চালক হাবিবুর ও সুপারভাইজার সফর আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্তরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।