নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ ১২ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সোমবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে বক্তাবলী ইউনিয়নের উত্তর গোপালনগর ও আকবর নগর এলাকায় দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সামাদ আলী বাহিনীর সঙ্গে বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলীর সমর্থক জাকির গ্রুপের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার দুপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই পক্ষ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী বলেন, ‘কোনও পক্ষের লোকজনই আমার অনুসারী নয়। শুনেছি পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সামাদ ও জাকির গ্রুপের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। তারা টেঁটা নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়েছে। এতে জাকিরের নেতৃত্বে থাকা সাত জন আহত হয়েছেন। তবে সামাদ গ্রুপের কেউ আহত হননি।’
এ ঘটনায় সামাদ ও জাকির গ্রুপের কারও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। সামাদ ও জাকিরকে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিজাউল হক বলেন, ‘দুই পক্ষের সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে ২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল ছুড়েছে পুলিশ। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়েছে। এতে পাঁচ পুলিশ আহত হন। তবে দুই পক্ষের কেউ আহত হয়েছে কিনা তা জানা নেই। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এ ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হবে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করা হবে।’