খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, ‘দেশে চালের অভাব নেই। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আগে ৮১৩টি ডিলারের মাধ্যমে ওএমএস চালু করেছিলাম। কিন্তু বৈশ্বিক কারণে ৮১৩টি থেকে বাড়িয়ে ২৩৬০টি ডিলারের মাধ্যমে মার্কেটে চাল ছেড়েছি। যারা এটা পাবে তাদের যেন বাজার থেকে চাল কিনতে যেতে না হয়। আমি আশা করি, চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে আসে। গ্যারান্টি দিয়ে বলতে চাই, বাংলাদেশে চালের কোনও অভাব নেই। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় এক লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন এবং ওএমএসে এক লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন করে প্রতি মাসে চাল মার্কেটে ছাড়ছি।’
বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি এবং চাষাঢ়ায় টাউন হলে ওএমএসের মাধ্যমে নির্ধারিত দরে চাল বিক্রির কার্যক্রম উদ্বোধনের সময় মন্ত্রী এ কথা বলেন
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা যাতে কারসাজি করতে না পারে এ জন্য শুল্কমুক্ত করে বেসরকারিভাবে চাল আমদানি শুরু করেছি। সেটা গতকাল থেকে ঢোকা শুরু করেছে। তারপরও অসাধু ব্যবসায়ীরা যদি দেশকে অস্থির করার জন্য চাল নিয়ে খেলা খেলে তাহলে আমরা সদা প্রস্তুত রয়েছি।’
মন্ত্রী বলেন, ‘এক কোটি পরিবারকে আমরা ওএমএস কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে এসেছি। আর ৫০ লাখ পরিবারকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় আনছি। প্রতি মাসে প্রায় তিন লাখ মেট্রিক টন ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে চাল ছাড়ছি। আমি মনে করি, ভোক্তারা যারা আছেন ওএমএসে ৩০ টাকা কেজিতে এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল পাচ্ছেন। এ ছাড়া টিসিবির কার্ডধারীরাও ওএমএসের আওতায় চাল নিতে পারবেন।’
বিরোধী দলের সমালোচকদের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে করোনা মহামারি যেভাবে মোকাবিলা করেছি তা বিশ্বের অনেক দেশ পারেনি। প্রধানমন্ত্রীর আপ্রাণ চেষ্টার মধ্য দিয়ে করোনাকালে দেশের মানুষকে রক্ষা করেছে, প্রত্যেকের কাছে ভ্যাকসিন পৌঁছে দিয়েছে। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে আমদানি মূল্যসহ খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় সারা বিশ্ব নানা সমস্যায় পড়েছে, বাংলাদেশেও সেই হাওয়া পড়েছে। এতে যেসব দ্রব্য বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, সেসবের দাম বেড়েছে। তারপরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভর্তুকি দিয়ে সেটা স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। আপনাদেরকে সহযোগিতা করতে হবে, কারণ আমরা বিশৃঙ্খলা যদি সৃষ্টি করি দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজ, পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (দায়িত্বপ্রাপ্ত) আসমা উল হুসনাসহ প্রমুখ।