হত্যার পর লিচু গাছে ব্যবসায়ীর লাশ ঝুলিয়ে রাখে তারা

গাজীপুরের শ্রীপুরের তেলিহাটি ইউনিয়নের আনসার টেপিরবাড়ি গ্রামের লিচু বাগান থেকে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১। বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) বিকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

এর আগে বুধবার (১২ অক্টোবর) ময়মনসিংহের গৌরীপুর এবং শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। নিহত এনামুল হক (৩৭) ময়মনসিংহ সদরের শম্ভুগঞ্জ গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের ছেলে। তিনি বালু ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় মামলা করেছেন নিহতের স্বজনরা।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—ময়মনসিংহের পাগলা থানার চাকুয়া গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে ফালান (৪০), শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা এলাকার মৃত ছিদ্দিক গাজীর ছেলে আবুল কাশেম গাজী (৩৩) এবং একই এলাকার মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে ফখরুল ইসলাম (৫০)। র‌্যাব-১-এর পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর এএসএম মাঈদুল ইসলাম তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মাঈদুল ইসলাম বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের আনসার টেপিরবাড়ি গ্রামের লিচু বাগান থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ যেভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে এতে বোঝা যাচ্ছিল, ওই ব্যক্তিকে অন্য কোথাও হত্যা করে লিচু গাছে ঝুলিয়ে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। ওই ব্যক্তির মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। সেইসঙ্গে ছায়া তদন্ত শুরু করে র‌্যাব। বুধবার দুপুরে গৌরীপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবুল কাশেম গাজীকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তার দেওয়া তথ্যমতে, একইদিন গফরগাঁও থানার দত্তের বাজার এলাকা থেকে ফালান এবং শ্রীপুরের দোখলা বেড়াইদেরচালা থেকে ফখরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ও পাঁচ হাজার ৬১০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

মাঈদুল ইসলাম আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করে এনামুল হক বালু ব্যবসায়ী। ২৯ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় ফখরুল ইসলামের কাছ থেকে বালুর টাকা নিতে তার বাড়িতে যান এনামুল। টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এনামুলকে মারধর করে ফখরুল। এনামুল দৌড়ে স্থানীয় খোরশেদ আলমের দোকানের সামনে গেলে আবুল কাশেম ও ফালান আটকে রেখে তার কাছ থেকে পাঁচ হাজার ৮০০ টাকা ও একটি মোবাইল কেড়ে নেয়। পরে এনামুলকে আবারও ফখরুলের কাছে নিয়ে যায়। তখন সবাই মিলে মারধর করলে এনামুলের মৃত্যু হয়। ওই দিন রাতে টেপিরবাড়ি গ্রামে লিচু বাগানে লাশ ঝুলিয়ে রাখে তারা।’