আড়াইহাজারে আ.লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ আহত ১১

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৪ অক্টোবর) বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের ডহর মারুয়াদী এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটেছে। 

আহতরা হলেন- বিল্লাল হোসেন, আঁখি, ইমরান,  ইমন, নুরুল ইসলাম, জরিনা বেগম, আ. রহমান, জিয়াউদ্দিন, বিউটি বেগম, আরিফ ও মকবুল। আহতদের মধ্যে কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, আরও কয়েকজন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। 

স্থানীয়রা জানায়, ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। রাসেল খানের সঙ্গে বিপুল ভোটে পরাজিত হন। ওই নির্বাচনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হাফেজ খান জয়ী প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনের সময়ে কাজ করেছেন। এ নিয়ে আনোয়ার ও হাফেজ খানের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এ ছাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সেই বিরোধ আরও বাড়তে থাকে।

শুক্রবার বিকালে হাফেজ খানের অনুসারীরা আনোয়ার হোসেন ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে অশালীন কথা ছড়ানোর অভিযোগ তোলেন। এর ধারাবাহিকতায় হাফেজ খানের ওপর হামলা চালান আনোয়ার হোসেনের অনুসারীরা। এই খবর শুনে হাফেজ খানের স্বজনরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পাল্টা আক্রমণ চালায়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। পরে দফায় দফায় তাদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এই বিষয়ে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা হাফেজ খান দাবি করেন, রাসেল মেম্বারের পক্ষে নির্বাচনে কাজ করায় বিরোধ তৈরি হয়। এরপর থেকে আনোয়ার হোসেন বিভিন্ন অজুহাতে আমার সঙ্গে ঝগড়া লাগার চেষ্টা করে আসছিলেন। আজ তার লোকজনের নামে মিথ্যা কুৎসা রটানোর অভিযোগ এনে আমার ওপর হামলা চালান। এ সময় আমাকে বাঁচাতে গিয়ে আমার পরিবার সদস্য ও অনুসারীরা হামলার শিকার হয়ে আহত হয়েছেন।

যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন দাবি করেন, আমার বাড়িঘর ঘেরাও করে হামলা করা হয়েছে। এতে চার বছরের শিশুসহ আমার অনুসারীদের পিটিয়ে আহত করা হয়েছে।

আড়াইহাজার থানার ওসি আজিজুল হক হাওলাদার বলেন, আনোয়ার ও হাফেজ খান দুজনে চাচাতো-জেঠাতো ভাই। পূর্ব বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এই ঘটনায় উভয় পক্ষ অভিযোগ দিয়েছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।