পাহাড়ে আস্তানা গুড়িয়ে দিয়ে জঙ্গিদের দমনে র্যাব অনেকটাই সফল বলে দাবি করেছেন মহাপরিচালক (ডিজি) খুরশীদ হোসেন। তিনি বলেন, “অল্পবয়সী ছেলেদের হিজরতের নামে ‘ব্রেইনওয়াশ’ করা হচ্ছে । পাহাড়ে কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন আছে। কোনও একটা সংগঠনের ছত্রছায়ায় তারা বান্দরবানের রামুতে অবস্থান নিয়েছে। পরে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের নির্দেশ মোতাবেক সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে অভিযান চালিয়েছি। আমরা কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছি।”
বুধবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের আদমজীনগরে র্যাব-১১ এর সদরদফতরে জব্দ হওয়া বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ধ্বংসের সময় সাংবাদিকদের দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খুরশীদ হোসেন বলেন, ‘আগস্ট মাসে পত্রিকায় আমরা দেখলাম, কুমিল্লা থেকে বেশকিছু তরুণ নিখোঁজ হয়েছে। এ সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে ৫৫ জনের নাম পেয়েছি। পরে ৩৫ জন হিজরতের নামে বাড়ি ছেড়েছে বলে নিশ্চিত হয় র্যাব। তারা কোথায় গেলো খুঁজতে গিয়ে কয়েকজন ধরা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে নেতৃত্ব দেওয়া কয়েকজনকে ধরা হলো। এই কার্যক্রম আমাদের অব্যাহত আছে।’
বান্দরবানের রামুতে সেনাবাহিনী ও র্যাবের জঙ্গিবিরোধী যৌথ অভিযান অব্যাহত আছে জানিয়ে র্যাব প্রধান আরও বলেন, ‘এক সময় নর্থবেঙ্গল থেকে জঙ্গি আসতো। এর উত্থান হয়েছিল ২০০৫ সালে জোট সরকারের আমলে। সে জঙ্গিরা সারা বাংলাদেশে বিস্তার করলো। পরে সমগ্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রচেষ্টায় আমরা মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছিলাম। তারা এখন সমতলে সুযোগ না পেয়ে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা নির্বাচন করেছে।’
গত ২৩ জুলাই সোনারগাঁয়ের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে জব্দ করা দুই কন্টেইনার ভর্তি বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ জব্দ করে র্যাব-১১। এই মাদক ধ্বংস করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে র্যাব কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় দুই কনটেইনার মদ ভর্তি ৩৭ কোটি টাকার মাদক জব্দ করা হয়েছে। এই বিষয়ে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না
এই সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা ফেরদৌস, র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক খন্দকার আল মঈন, র্যাব-১১ এর অধিনায়ক তানভীর মাহমুদ পাশা, জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল প্রমুখ।