নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া এলাকায় পোশাককর্মী জয়নুর রহমান জনি (২৪) হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার (৩১ অক্টোবর) রাতে ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
এ মধ্যে একজন হলেন শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানার সালাহউদ্দিন মিয়ার ছেলে সাগর ওরফে কুত্তা সাগর (২৩)। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা জামতলা ধোপাপট্টি এলাকার রাজিব মিয়ার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। অপরজন হলেন নারায়ণগঞ্জ শহরের ডিআইটি কাঠের মার্কেট এলাকার মৃত মানু চাঁন মিয়ার ছেলে জয়চাঁন ওরফে বিশাল (২৪)।
মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, ‘গত ২৯ অক্টোবর ভোরে চাষাঢ়া রেললাইনের ওপর এক ব্যক্তি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে এমন খবর পেয়ে সেখান থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। সে সময় পুলিশ ধারণা করেছিল, ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে এই ঘটনা ঘটেছে। পরে লাশের আইডি কার্ড খুঁজে পেয়ে তার নাম-পরিচয়সহ কর্ম প্রতিষ্ঠানের নাম জানা যায়। সে একটি গার্মেন্টে চাকরি করতো, তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলায়। ওই দিন জনি কুষ্টিয়া থেকে ছুটি শেষ করে নারায়ণগঞ্জে আসে। আনুমানিক ভোর সাড়ে ৩টায় বাস থেকে নেমে তার বাসায় যাওয়ার পথে এই ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাটি বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে।’
তিনি বলেন, ‘এর ধারাবাহিকতায় জেলা পুলিশ হত্যার রহস্য উন্মোচনের জন্য কাজ শুরু করে। গত রাতে (সোমবার) এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিনতাইকারী সাগর ও তার সহযোগী জয়চাঁনকে ফতুল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে মৃতের মোবাইল ফোন ও তাকে হত্যার সময় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে, সাগর এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এ ছাড়া ওই এলাকায় ৮-১০ জন ছিনতাইকারী রয়েছে বলে পুলিশকে জানিয়েছে। এর মধ্যে নারী ছিনতাইকারীও রয়েছে।’
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এসব ছিনতাইকারীরা তাদের ছিনতাইয়ের একটা নির্দিষ্ট পারসেনটেজ (টাকার অংশ) সাগরকে দেয়। তাদের নাম পেয়েছি। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যে ছিনতাই চক্রের অন্যদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবো। যেহেতু লাশটি রেলওয়ের ওপরে পাওয়া গেছে, তাই নিয়ম অনুযায়ী রেলওয়ে পুলিশ মামলার তদন্ত করবে, সেখানে মামলা হয়েছে। আসামিদের রেলওয়ের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২৯ অক্টোবর ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া মহিলা কলেজের সামনে রেললাইনের ওপর থেকে জয়নুর রহমান জনির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। জনি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর এলাকার লাল্টু মিয়ার ছেলে। তিনি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা বিসিক শিল্পনগরী এলাকার ফেইম অ্যাপারেল লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন।
বাস থেকে নামার পরে ছিনতাইকারীরা তাকে ছুরিকাঘাত করে মানিব্যাগ ও মোবাইলফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ছিনতাইকারীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই জনি মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনায় নিহতের চাচাতো ভাই মোশারফ মাহমুদ মনা বাদী হয়ে কমলাপুর রেলওয়ে থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়েছিল। এদিকে ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ থেকে ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রবাহ সম্পর্কে জানতে পারে পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দুজন আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।