সিমেন্ট কারখানার ক্রেনের ধাক্কায় জাহাজের ইঞ্জিনচালকের মৃত্যু, আলামত ধ্বংসের চেষ্টা

মুন্সীগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে শাহ সিমেন্ট ফ্যাক্টরির ক্রেনের ধাক্কায় মোহাম্মদ আজিম নূর (৩০) নামে জাহাজের একজন ইঞ্জিনচালকের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর আলামত ধ্বংসের চেষ্টা চালিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে পশ্চিম মুক্তারপুর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে জাহাজ থেকে সিমেন্ট কারখানার ক্লিংকার খালাসের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটনা ঘটে। আজিম নূর সাকিয়া-১ জাহাজের ইঞ্জিনচালক বলে জানা গেছে। 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একই জাহাজের সহকারী ইঞ্জিনচালক মো. হাফিজ বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে জাহাজ থেকে শাহ সিমেন্ট ফ্যাক্টরির ক্লিংকার খালাস করছিলেন শ্রমিকরা। জেটিতে উঠার সময় ফ্যাক্টরির ক্রেনের ধাক্কায় মাথায় গুরুতর আঘাত পান আজিম। নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নূর সাকিয়া-১ জাহাজের চালক মো. ফারুক আলম বলেন, ক্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে। পরে কারখানার লোকজনের সঙ্গে আমি লাশ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে যাই। চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করার পর কারখানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তার লাশ বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহ সিমেন্ট কারখানার এইচআর অ্যাডমিন মো. সাকির বলেন, কীভাবে মৃত্যু হয়েছে তা জাহাজের লোকজন জানে। খবর পাওয়ার পর তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে আমরা। মৃত ঘোষণা করার পর তার লাশ বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। তবে মৃত্যুর পর আলামত ধ্বংসের চেষ্টা চালিয়েছে কারা তা জানি না।

মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ক্রেনের ধাক্কায় ওই ব্যক্তির মৃত্যুর পর কারখানা কর্তৃপক্ষ পুলিশকে না জানিয়ে লাশ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। এরইমধ্যে ক্রেন দিয়ে মৃত্যুর আলামত ধ্বংসের চেষ্টা করে তারা। এমনকি পুলিশকে এ বিষয়ে কোনও ধরনের সহযোগিতা করেনি। কেউ মারা গেলে সুরতহাল রিপোর্ট করতে হয়। অথচ পুলিশ যাওয়ার আগেই লাশ হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নিয়ে যায় তারা। এসব কর্মকাণ্ড এক ধরনের অপরাধ। স্বজনরা অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।