গ্রামে ঢুকেই এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ, আহত ৬

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার চরাঞ্চল গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের কদমতলী গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় দুজন গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ছয় জন আহত হয়েছেন। সোমবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন হারুন অর রশিদ (৬০) ও মোখলেস (৪৫)। এ ছাড়া ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছে নুরুল হক (৭০) ফারুক (৪১), আব্দুস সাত্তার (৬২) ও ফয়সাল (২০)।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুদিন আগে গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের কদমতলী গ্রামের বাসিন্দা আফসার উদ্দিনের ছেলে ফয়সালের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী গ্রাম বালুয়াকান্দির কয়েকজন যুবকের বাগবিতণ্ডা হয়। এই ঘটনার জের ধরে আজ সন্ধ্যা ৬য়টার দিকে বালুয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী নয়নের নেতৃত্বে কমপক্ষে ৩৫/৪০ জন হামলা চালায় কদমতলী গ্রামে। এ সময় তারা গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য সুরুজ মিয়া প্রধানের দুটি বসতঘরে ভাঙচুর এবং স্থানীয় লোকদের উপর এলোপাতাড়িভাবে গুলিবর্ষণ ও চুরিকাঘাত করতে থাকে।

তাদের হামলায় হারুন-অর-রশিদ, নুরুল হক গুলিবিদ্ধসহ আহত হন পাঁচ জন। হামলাকারীরা ফিরে যাওয়ার পথে ফয়সালকে তুলে নিয়ে যায় এবং বেধড়ক মারধর করে। পরে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে। আহতদের মধ্যে ফয়সাল ছাড়া বাকি পাঁচ জনকে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।

গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আশরাফুল ইসলাম মৃধা বলেন, আমাদের হাসপাতালে মোট পাঁচ জন রোগী এসেছেন। এর মধ্যে হারুন-অর-রশিদ ও মোখলেসকে শর্টগান জাতীয় কিছু দিয়ে গুলি করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। বাকিদের গায়ে দেশীয় অস্ত্র এবং রড জাতীয় কিছুর আঘাত রয়েছে। আহতদের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গজারিয়া থানার ওসি মোল্লা সাহেব আলী বলেন, এ রকম একটি ঘটনার খবর পেয়েছি, তবে কেউ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন কি না সেটা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।