বিএনপির বিরুদ্ধে নৈরাজ্যের অভিযোগ তুলে তা ঠেকাতে নারায়ণগঞ্জের রাজপথ নিজেদের দখলে নিয়েছেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শনিবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের শহর, বন্দর, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার অন্তত অর্ধশতাধিক স্পটে একযোগে মিছিল করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। মিছিলগুলোতে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা এ কে এম শামীম ওসমানের অনুসারীদের আধিক্য ছিল।
সকাল থেকে শহরের দুই নম্বর রেলগেট সংলগ্ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা একসাথে অবস্থান নেন। পরে মিছিল বের করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।
একইভাবে থানা, ওয়ার্ড, ইউনিয়নসহ তৃণমূল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার ২৭টি ওয়ার্ড, বন্দর উপজেলার বিভিন্ন স্পট, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ে থেকে একযোগে মিছিল নিয়ে বের হন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিকলীগ ও ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ‘জামায়াত-বিএনপি জোট সমাবেশের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদ’ প্রতিপাদ্যে তারা বক্তব্য দেন।
বিক্ষোভ মিছিলে নেতাকর্মীরা বিএনপিকে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি আখ্যা দিয়ে সাবধান হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ‘ধরি ধরি ধরি না, ধরলে কিন্তু ছাড়ি না’, ‘স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি, সাবধান হুঁশিয়ার’সহ নানা স্লোগান দিয়ে শহর-নগরের রাজপথ মুখরিত করে তোলেন। তবে রাজপথে স্লোগান দেওয়া নেতাকর্মীদের একটি বিশাল অংশ এমপি শামীম ওসমানের অনুসারী ছিলেন। ফলে নৌকা ও আওয়ামী লীগের স্লোগানের পাশাপাশি তারা সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে নিয়েও স্লোগান দিয়েছেন।
এভাবে দফায় দফায় শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন সড়কে মিছিল করতে দেখা যায়। এ ছাড়াও বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জেলার শীর্ষ পদে থাকা নেতারা শহরে অবস্থিত আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আসেন। এ সময় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আরও চাঙা হয়ে ওঠেও। এতে বিক্ষোভ মিছিল শেষে মুহুর্মুহু স্লোগান দিতে দেখা যায়।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম বলেন, আগুন সন্ত্রাসীরা যাতে জানমালের কোনও ক্ষতি করতে না পারে, সেজন্য আমরা সোচ্চার রয়েছি। থানা ও তৃণমূল পর্যায়ের প্রায় অর্ধশতাধিক স্পটে আমাদের দলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করে রাজপথে রয়েছেন। আমাদের নেতা এমপি শামীম ওসমান, তার নির্দেশে আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম পালন করেছি।
মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া সাজনু বলেন, সকাল থেকে সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে। জেলা থেকে শুরু করে ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের তৃণমূলের সকল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেছেন। মহাসমাবেশকে ঘিরে বিএনপি যাতে জ্বালাও-পোড়াওসহ কোনও নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম।
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা আওয়ামী লীগ অফিসে অবস্থান করেছি। বিএনপি যদি সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, বিএনপির ষড়যন্ত্র করে পার পাবে না। আমাদের নেতাকর্মীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিএনপি যদি নৈরাজ্য সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।