নির্যাতনে ব্যবসায়ীর মৃত্যুর অভিযোগে পুলিশের ২ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার

গাজীপুরে পুলিশের নির্যাতনে সুতা ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম মন্ডলের (৩৮) মৃত্যুর অভিযোগে মহানগরের বাসন থানার দুই এএসআই-কে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার দেলোয়ার হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ বিভাগের উপ-কমিশনার (উত্তর) আবু তোরাব মো. শামসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রত্যাহার হওয়া দুই এএসআই হলেন মাহবুবুর রহমান ও নুরুল ইসলাম। মারা যাওয়া রবিউল ইসলাম রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার শাহাদাতপুর (পোস্ট গুজিপাড়া) গ্রামের বাকি মন্ডলের ছেলে।

জানা গেছে, গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানাধীন ভোগড়া পেয়ারা বাগান এলাকা থেকে সুতা ব্যবসায়ী রবিউলকে অনলাইনে জুয়া খেলার অভিযোগে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রতিবেশী স্বপন খানসহ স্থানীয়রা অভিযোগ করেন শনিবার (১৪ জানুয়ারি) রবিউলকে গ্রেফতার করে। তার সঙ্গে আরও তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদেরকে ছেড়ে দিলেও পুলিশ মঙ্গলবার মধ্য রাত পর্যন্ত রবিউলকে ছাড়েনি। বাসন থানা পুলিশ মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে রবিউলের স্ত্রী নুপুর বেগমকে খবর দিয়ে থানায় নিয়ে যায়।

থানায় গেলে পুলিশ তার কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে জানান, তার স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। ওই রাত ৩টায় তিনি জানতে পারেন তার স্বামী ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন।

রবিউলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বুধবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় পেয়ারা বাগান এলাকার মানুষ ভোগড়া বাইপাস এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উঠে অবরোধ করেন। বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্ত পুলিশের বিচার দাবি করেন। এ সময় তারা চারটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষুব্ধ লোকজনকে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে দুই ঘণ্টা পর দুপুর ১২টায় দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানার ওসি মালেক খসরু খান জানান, মোবাইলে বিটকয়েন দিয়ে জুয়া খেলার অভিযোগে মঙ্গলবার রাতেই রবিউলকে আটক করা হয়েছিল। ওই রাতেই তাকে ছেড়ে দিলে বাসায় ফেরার পথে ভোগড়া বাইপাস সড়কে দুর্ঘটনায় আহত হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সে মারা যায়। পুলিশ তাকে নির্যাতন করেনি এবং সে পুলিশের নির্যাতনে মারা যায়নি।