নতুন শিক্ষাক্রমে শিখন পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘জীবনে আমরা কত সূত্র, কত ফর্মুলা মুখস্থ করলাম, কোথায় এগুলোর প্রয়োগ হয় তা এখনও বুঝতে পারিনি। নতুন শিক্ষা পদ্ধতিতে শিখন পদ্ধতিই বদলে দেওয়া হয়েছে। এখন শিক্ষার্থী অনুশীলন করে করে শিখবে। আর যা শিখবে তাই আত্মস্থ করবে, তবে আর মুখস্ত করার দরকার নেই।’
রবিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টায় শ্রীপুরের পিয়ার আলী ডিগ্রি কলেজের আয়োজনে বার্ষিক ক্রীড়া-সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
নতুন শিক্ষাক্রমে শিখন পদ্ধতির যে পরিবর্তন হয়েছে, তার ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধের চর্চা, পরিবেশের শিখন; এ সমস্ত বিষয়ে শিক্ষার মূল্যায়নের অংশ হবে।’ শিক্ষার্থীরা এখন আনন্দ নিয়ে পাঠ গ্রহণ করছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।
পাঠ্যবই নিয়ে নানান সমালোচনা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে ধাক্কা দিয়ে ক্ষমতা থেকে সরাতে না পেরে তারা এখন বইয়ের উপর চড়াও হচ্ছে। নবম-দশম শ্রেণির বই ২০১৩ সালের। কিছু ভুল ধরা পড়েছে, আমরা সংশোধন করে দিয়েছি। কিন্তু একটা ভুল এতদিন কারও চোখেই ধরা পড়েনি। আরও আগেই ধরা পড়া উচিত ছিল।’
পাঠ্যবইয়ে বিবর্তনবাদ নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘পাঠ্যবইয়ে বানর থেকে মানুষ হওয়ার কথা বলা হয়নি। বরং বলা আছে মানুষ বানর থেকে হয়নি। বানর থেকে মানুষ হয়েছে— এ কথা যে ঠিক নয়, সেটা তিনবার বলা আছে।’ একসঙ্গে এক বছরে নতুন করে ২৬টি বই রচনা চাট্টিখানি কথা নয় বলেও উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী।
এ নিয়ে সমালোচকদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘ইসলাম সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। বলা হয়েছিল, নৌকায় ভোট দিলে বিবি তালাক হয়ে যাবে, মসজিদে উলুধ্বনি বাজবে। যারা বয়োজ্যেষ্ঠ আছেন বলতে পারবেন, নৌকায় ভোট দেওয়ার কারণে মসজিদে উলুধ্বনি হয়নি।’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘চিলে কান নিয়ে গেছে শুনলে সাথে সাথে কানে হাত দিয়ে যাচাই করুন। প্রত্যেকে যার যার ধর্ম অনুযায়ী সত্যকে প্রচার করুন এবং মিথ্যাকে বর্জন করুন। আসুন আমরা সত্যকে যাচাই করি।’
নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসা বেড়ে যাবে বলে মনে করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশ্ন করবে। যত প্রশ্ন করবে ততই শিখবে। এই শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষাগ্রহণ করে কোনও নারী-পুরুষ যদি বারবার প্রশ্ন করা শিখে যায়, তাহলে তাদের আগ্রাসন ভেস্তে যাবে।’
পিয়ার আলী ডিগ্রি কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও গাজীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন ভূঁইয়ার পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেব বক্তব্য রাখেন মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ।