গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ককে আটক করে ‘সরি’ বললো পুলিশ, মুচলেকায় মুক্তি

তুচ্ছ ঘটনার জেরে গণসংহতি আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজনকে আটক করে সদর মডেল থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এই ঘটনার জন্য পরে ‘সরি’ বলে মুচলেকা রেখে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ১১ টার সময় নারায়ণগঞ্জ চাষাঢ়া শহীদ মিনার থেকে তাকে আটক করা হয়।

তরিকুল সুজন দীর্ঘদিন ধরে গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এছাড়াও বাম ঘরানার বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে তিনি জড়িত রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, রাতে শহীদ মিনার থেকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য লোকজনদের বের করে দিচ্ছিল। এ সময় পুলিশ তরিকুলকে বের হয়ে যেতে বলে। তিনি বের হতে অনিহা প্রকাশ করেন। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। ঘটনাস্থলে তরিকুল সুজনের সঙ্গে স্থানীয় একটি পত্রিকার একজন সাংবাদিক ছিলেন। ওই সাংবাদিকও পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে পুলিশ উত্তেজিত হয়ে তরিকুল সুজনকে আটক করে সদর মডেল থানায় নিয়ে যায়। পরিচয় জানতে পেরে স্থানীয় সাংবাদিককে ছেড়ে দেয়।

এ বিষয়ে তরিকুল সুজন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহীদ মিনারে হালিম খাচ্ছিলাম। এ সময় পুলিশের কয়েকজন সদস্য এসে আমাকে উচ্চস্বরে বের হয়ে যেতে বলেন। আমি আমার কাজ সম্পন্ন করে বের হয়ে যাবো বলে তাদের জানাই। এছাড়া কাউকে কৈফিয়ত দিয়ে শহীদ মিনার প্রাঙ্গন থেকে বের হতে হবে কিনা এমনটি প্রশ্ন করেছি। তারা আমার কথা নিতে পারেনি। তাদের মধ্যে এক কর্মকর্তা আমাকে ধাক্কা দিয়ে বাঁশ দিয়ে মারতে চাইলে আমি উত্তেজিত হই। এ সময় তারা আমাকে থানায় নিয়ে গিয়ে মামলা দেওয়ার হুমকি দেয়। পরে পুলিশের আরেকজন সিনিয়র কর্মকর্তা এসে একই কথা বলেন। তারা আমাকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে পুলিশের পিকআপ ভ্যানে তুলে। 

তিনি আরও জানান, রাত প্রায় পৌঁনে ১২ টার সময় আমাকে সদর মডেল থানায় নেওয়া হয়। সেখানে থানার ওসির (আনিচুর রহমান) সঙ্গে কথা হয়। আলাপ আলোচনার পরে বিষয়টি জানতে পেরে ওসি আমাকে সরি বলেন। আমি অনুরোধ করেছি, শহীদ মিনারের সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশ যেন খারাপ আচরণ না করে। পরে রাত পৌনে ১ টার সময় আমাকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সাংবাদিক জানায়, শহীদ মিনার প্রাঙ্গন থেকে বের হয়ে যেতে বললে পুলিশের সঙ্গে আমাদের কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনায় পুলিশ তরিকুল সুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিচুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। রাতের বেলা সেখানে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ কারণে পুলিশ শহীদ মিনার থেকে লোকজন সরিয়ে দিচ্ছিল। এ বিষয় ওনার মাইন্ডে লেগেছে। তরিকুল সুজন একটি দলের সমন্বয়কারী। তাছাড়া পুলিশ তাকে চিনতে পারেনি। এ নিয়ে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। এই ঘটনায় আমরা তাকে সরি বলেছি, তিনিও সরি বলেছেন।’

মুচলেকা রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, পুলিশ একজন ব্যক্তিকে এক জায়গা থেকে অন্যত্র নিয়ে গেলে মুচলেকা রাখতে হয়। কারণ পুলিশ এই সময়ে তাকে সুস্থ্য ও স্বাভাবিক রেখেছে, এ বিষয়টি নিশ্চিত করার বিষয় রয়েছে।