মাদক পাচার করতে এসে মারধরের শিকার রোহিঙ্গা যুবক

গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদক পাচার করতে এসে পাচারকারী সদস্যদের কাছে মারধরের শিকার হয়েছেন রুবেল মোহাম্মদ (২২) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক। মারধরের একপর্যায়ে তাকে চেতনানাশক খাইয়ে সড়কের পাশে ফেলে রেখে যান তারা।

সোমবার (৬ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টায় শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের গোলাঘাট বাজারের পাশ থেকে তাকে উদ্ধার করেছে এলাকাবাসী। তিনি বর্তমানে শ্রীপুর থানা পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। 

রুবেল মোহাম্মদ মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলের মুন্ডু এলাকার মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। বর্তমানে তিনি কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পানবাজার ২ নম্বর ক্যাম্পে বাস করেন।

বরমী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন জানান, সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন গোলাঘাট এলাকায় অচেতন অবস্থায় এক যুবক পড়ে আছে। পরে তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় ওই যুবককে উদ্ধার করেন। তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রুবেল বলেন, ‘মাদক পরিবহনের জন্য মাসে ২০ হাজার টাকা বেতনে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সম্প্রতি ট্রাকচালক নুর মোহাম্মদ ও আরও দুই রোহিঙ্গা যুবক সবুজ ও সাহিদ তাকে নিয়ে ট্রাকে করে ময়মনসিংহ আসেন। পরে মাদকসহ তাকে নামিয়ে দেন। মাল নামানো শেষে একটি বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর তাকে ট্রাকের মধ্যে মারধর করা হয়। পরে চেতনানাশক খাইয়ে শ্রীপুরের গোলাঘাট এলাকায় রেললাইনের পাশে ফেলে দেয় তারা। 

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আসমাউল হুসনা বলেন, ‘অচেতন অবস্থায় ওই যুবককে রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন কয়েকজন। প্রাথমিক চিকিৎসার কিছুক্ষণ পর তার জ্ঞান ফিরলে নিজেকে রোহিঙ্গা বলে পরিচয় দেন। তার পরিচয় শুনে হাসপাতাল থেকে শ্রীপুর থানাকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে পুলিশ এসে ওই যুবককে নিয়ে গেছে।  

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, রোহিঙ্গা যুবককে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খবর পেয়ে রাতে ওই যুবককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হবে।’