গাজীপুরে কারখানায় ৩ শ্রমিকের মৃত্যু, সড়ক অবরোধ

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ইলেকট্রনিকস পণ্য তৈরির এক কারখানায় ইফতার খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন শ্রমিক মারা গেছেন। তাদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে পুলিশ। 

রবিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে মৃত তিন শ্রমিকের পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি।

সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ বলেন, ‘রবিবার ইফতারের সময় কালিয়াকৈর থানার চন্দ্রায় ওই কারখানায় ইফতার খেয়ে কয়েক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ শ্রমিকদের কাশিমপুর এলাকার শেখ ফজিলাতুননেসা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখানে তিন শ্রমিক মারা গেছেন।’ 

শেখ ফজিলাতুননেসা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজি বিশেষায়িত হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পেশেন্ট কেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট হৃদয় বলেন, ‘হাসপাতালে চার জনকে আনা হয়। এর মধ্যে তিন জনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে।’

এদিকে, তাদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা। এতে আব্দুল্লাহপুর-চন্দ্রা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে বারইপাড়া থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। 

কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজ পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেছেন শ্রমিকরা। ওই কারখানার সামনের সড়কের দুই পাশে যানবাহন নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করছে। সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকরা। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের কর্মীরা বিক্ষোভকারীদের বাধার মুখে ঘটনাস্থলে যেতে না পেরে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করছেন।’

ইউএনও তাজওয়ার আকরাম সাকাপি বলেন, ‘রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছেন। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি আমরা। জেলা, শিল্প পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন।’ 

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘তিন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি আমরা।’

কেপিজি বিশেষায়িত হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স খাদিজা আক্তার বলেন, ‘রাত ৯টার দিকে তিন ব্যক্তিকে মৃত ও একজনকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। যারা এনেছেন তারা মৃতদের পরিচয় জানাতে পারেননি। খাদ্যে বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছি আমরা।’

তবে কারখানার ডেপুটি অপারেটিভ ডিরেক্টর মো. সুজন মিয়া বলেন, ‘আমরা যতদূর জেনেছি, তারা খাবার খেয়ে নয়; হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।’