খাটের ওপর পড়ে ছিল স্ত্রীর মরদেহ, স্বামী পলাতক

গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী এলাকায় দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রী আসমা আক্তারকে (৩৬) শ্বাসরোধে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে স্বামী নুরু মিয়া পলাতক রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৪ মে) সকাল ৯টায় পুলিশ ভিকটিমের লাশ উদ্ধার করেছে। আসমা চট্টগ্রামের হালিশহর থানার খাজার দীঘির পাড় গ্রামের মোস্তফা মিয়ার মেয়ে এবং একই গ্রামের নুরু মিয়ার স্ত্রী। তারা একমাত্র ছেলেকে নিয়ে গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকার কামাল হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপির) কোনাবাড়ী জোনের সহকারী কমিশনার দিদারুল ইসলাম জানান, স্ত্রীর সঙ্গে নুরু মিয়ার প্রায়ই ঝগড়া হতো। গত ১ মে স্ত্রী নিখোঁজের ঘটনায় কোনাবাড়ী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি। জিডিতে তিনি স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা লুট করার অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকা থেকে স্ত্রীকে উদ্ধার করলে ওই জিডি তুলে নেন ভিকটিমের স্বামী। 

তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নুরু বাড়ির ম্যানেজার জয়ানের মোবিইল ফোনে কল করে জানান সাত তলায় তার কক্ষের দরজা খুলে দেওয়ার জন্য। বিষয়টি ম্যানেজার বাড়ির মালিকের স্ত্রীকে জানালে তিনি কক্ষের সামনে গিয়ে দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। ডাকাডাকি করে শব্দ না পেয়ে চাবি দিয়ে তালা খুলে ভিকটিমকে খাটের ওপর মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তাদের পাঁচ বছরের ছেলে পাশের কক্ষে ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। 

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোনাবাড়ী থানার ওসি কে এম আশরাফ উদ্দিন জানান, সুরতহাল রিপোর্টে ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন, নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হওয়ার আলামত পাওয়া গেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। সিআইডি, পিবিআইসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের স্বামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।