গাজীপুরের শ্রীপুরে ডার্ড কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস কারখানায় বকেয়া বেতনের দাবিতে চলমান আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেন। রবিবার (১৪ মে) সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের সাটিয়াবাড়ির ওই কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
কারখানার শ্রমিকদের দাবি, শনিবার দিনব্যাপী বকেয়া বেতনসহ বিভিন্ন দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছিলেন। বিকালের দিকে উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি), শিল্প ও শ্রীপুর থানা পুলিশ কারখানায় উপস্থিত হয়ে সমস্ত বকেয়া পরিশোধের কথা বলেন। আমরা বলেছি, কারখানা মালিক না এলে আন্দোলন চালিয়ে যাবো। পরে ওই সব কর্মকর্তারা যোগাযোগ করে আজ বেলা ১১টায় মালিক কারখানায় এসে আমাদের সঙ্গে কথা বলার প্রতিশ্রুতি দিলে আমরা চলে যাই।
সকালে সব শ্রমিক এসে কার্ড পাঞ্চ করে কারখানার ভেতরে শান্তিপূর্ণ অবস্থান নেন। সকাল থেকেই মালিকপক্ষ কারখানার সামনে পুলিশের সাঁজোয়া যানসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে। এত শ্রমিকদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখো দিলেও কোনও উচ্ছৃঙ্খলতা না করে মালিকের অপেক্ষায় থাকেন। বিকাল সোয়া ৪টার দিকে পুলিশের পাহারায় মালিক কারখানায় প্রবেশ করেন। ১৫ মিনিট পর শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ৩০ জন প্রতিনিধি, শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), শিল্প ও থানা পুলিশ আলোচনায় বসেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-মামুন বলেন, মালিক ও শ্রমিকদেরকে নিয়ে আমরা কারখানার চার তলায় আলোচনা করছিলাম। আলোচনার শেষের দিকে শ্রমিকরা ২০২২ সালের সব পাওনা পরিশোধের দাবি তুললে মালিক তা পরিশোধের আশ্বাস দেন। এ খবর নিচে অপেক্ষারত শ্রমিকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে তারা বিক্ষোভ শুরু করলে আলোচনা বন্ধ হয়ে যায়।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ শ্রীপুর জোনের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর হুমায়ুন কবির জানান, কারখানার অভ্যন্তরে শ্রমিকরা হঠাৎ বিক্ষোভ শুরু করে। তারা পুলিশের দিকে ইট-পাটেকল ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে তারা কারখানার বাইরে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর শুরু করে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
তবে কত রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়েছে তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত সোয়া ৯টা) কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।