মানিকগঞ্জে খুন

টাকা ও জমির কারণেই ভাগ্নেদের হাতে খুন

মানিকগঞ্জে দুজন খুন, স্বজনদের আহাজারিমানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার গোবিন্ধল গ্রামে বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই মামাকে খুন করেছে ভাগ্নেরা। খুনের পর নিহতদের জমাট বাঁধা রক্ত পানি দিয়ে মুছে বীরদর্পে পালিয়ে গেছেন তারা।
নিহতরা হলেন ওই গ্রামের দিরগজ মোল্লার ছেলে নান্নু মোল্লা ওরফে টেনডল মোল্লা (৫০) ও মৃত রহিম মোল্লার ছেলে আজিজ মোল্লা (৫৫)। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই।
এদিকে, ভাগ্নেরাসহ অন্যদের হামলায় টেনডলের স্ত্রী কমেলা বেগম (৪০), ভাই আব্দুল করিম মোল্লা (৪০), ছেলে আল-আমিন (১৩), শ্যালক রমজান হোসেন (২৮) ও আলমগীর হোসেন (৩০) আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের মধ্যে আব্দুল করিম মোল্লার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত আজিজের ভাগ্নে স্থানীয় মেম্বার খোরশেদ আলম, সিংগাইর পৌরসভার কমিশনার হাবিবুর রহমান (হাবু মিয়া) ও নিহতদের চাচাতো ভাই বেলায়েত হোসেন জানান, প্রায় ২০ বছর আগে গোবিন্ধল গ্রামের মৃত দিরগজ মোল্লার মেয়ে হাসিনা আক্তার বাহরাইনে চাকরিরত অবস্থায় মারা যান। এই মৃত্যুতে বোন রাজিয়ার স্বামী সামসুল পোদ্দারের ব্যাংক একাউন্টে প্রায় ৩০ লাখ টাকা প্রদান করে ওই প্রতিষ্ঠান।

বিধবা ও নিঃসন্তান হওয়ায় মৃত হাসিনার ওই টাকার অংশীদার হন তার তিন ভাই ওহেদ আলী, নান্নু মোল্লা, করিম মোল্লা এবং দুই বোন রাজিয়া, হেলেনা আক্তার।

কিন্তু বিদেশ থেকে পাঠানো এই টাকার ভাগ দিতে রাজি হননি রাজিয়ার ছেলে জাহিদুল ও তার ভাইয়েরা। এছাড়া হাসিনার রেখে যাওয়া ৩৬ শতাংশ সম্পত্তি নিয়েও মামাদের সঙ্গে জাহিদুল পরিবারের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।

বিষয়টি সমাধানে চার মাস আগে সিংগাইর থানার ভেতরে এসআই জিয়াউদ্দিন উজ্জলের মধ্যস্ততায় সাড়ে তিন লাখ টাকার একটি রফা হয়। তাও মানতে নারাজ জাহিদুলের পরিবার।

মেম্বার খোরশেদ আলম জানান, গত শুক্রবার জাহিদুল তার মামা নান্নু মোল্লাকে স্থানীয় জামিষ্টি বাজারে হাতুরি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে।

নান্নু মোল্লার পরিবারের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরও জানান, টাকা ও সম্পত্তির অংশীদার তিন মামাকে তাদের (জাহিদুলের) বাড়িতে আজ রবিবার ডাকা হয়। কথার একপর্যায়ে ভাগ্নেদের সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পরেন তারা। তখন জাহিদুল তার দুই ভাই জসিম ও রশিদসহ তাদের লোকজন দা, বল্লম ও লাঠি দিয়ে মামাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান নান্নু মোল্লা ও আজিজ মোল্লা।

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ পুলিশের এএসপি জাকির হোসেন ও সিংগাইর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থল থেকে দুজনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পরপরই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে লাঠি, বল্লম ও দা জব্দ করা হয়েছে। আর জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ঘটনার পরে স্থানীয় পুলিশের ওসি ও নিহত স্বজনদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনজন খুনের সংবাদ বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশ হয়। কিন্তু দুপুরের দিকে মানিকগঞ্জ পুলিশের এএসপি জাকির হোসেন জানান, কথিত খুনের স্বীকার আব্দুল করিম মোল্লার অবস্থা আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার দেহে অস্ত্রপচার হয়েছে তবে তিনি বিপদমুক্ত নন।

/বিটি/এএইচ/