রাজবাড়ীর পাংশা হেডকোয়ার্টার থেকে মৃগী পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটার সড়ক। ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরে সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় বাড়ানো হয় প্রকল্পের মেয়াদ। এতেও শেষ হয়নি সড়কের সংস্কারকাজ। ভাঙা সড়কে প্রতিদিন ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যানবাহন চালক ও পথচারীদের।
জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে পাংশা হেডকোয়ার্টার থেকে মৃগী পর্যন্ত ১০ হাজার ৯০০ মিটার সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। সড়কটি সংস্কারকাজে ব্যয় ধরা হয় ১১ কোটি ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৭৭১ টাকা। কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মীর হাবিবুল আলম’। ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কাজ শুরু হয়। ২০২২ সালের ৩০ এপ্রিল কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করতে পারেনি। যে কারণে প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হয়। বাড়ানো সময় অনুযায়ী চলতি বছরের ২৮ জুন কাজ শেষ করার কথা।
সরেজমিন দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তায় বিছিয়ে রাখা হয়েছে খোয়া। যানবাহন চলাচলে খোয়া উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ভাঙা সড়কে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। যানজট লেগে থাকছে, ধুলাবালিতে রোগাক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।
পাংশার মৈশালা বাজারের মুদি ব্যবসায়ী হাসেম আলি বলেন, ‘প্রায় তিন বছর ধরে এই সড়কটি এভাবে পড়ে আছে। ভাঙা সড়কে পানি জমে থাকে। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রতিদিন যানজট লেগে থাকে। এই সড়কে চলাচল করতে মানুষের খুবই অসুবিধা হয়।’
ইজিবাইক চালক দুলাল শেখ বলেন, ‘সড়কের এ বেহাল অবস্থার কারণে দুই মিনিটের গন্তব্যে পৌঁছাতে ১০ মিনিটেরও বেশি সময় লাগে, গাড়ির ক্ষতি হয়। তিন বছর ধরে আমরা কষ্ট করছি। কার কাছে বলবো কষ্টের কথা। বলার কোনও জায়গা নেই।’
এ নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা কথা বলতে রাজি হননি। তবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) রাজবাড়ীর সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী এ কে এম রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কাজটি শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন সময় চিঠি দেওয়া হয়েছে। তার যে ব্যাংক গ্যারান্টি আমাদের কাছে আছে তা এনক্যাশমেন্টের (নগদকরণ) জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে আমরা চিঠি দিয়েছি। ব্যাংক এনক্যাশমেন্টের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এরই মধ্যে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটির মালিক মীর হাবিবুল আলম আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তিনি দুই-তিন দিনের মধ্যে সড়কের কাজ শুরু করবেন বলে কথা দিয়েছেন। কাজ শুরু না করলে আমরা চুক্তি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।’