বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘আমরা সভা-সমাবেশ করলে তার পাশেই আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশ করে। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এখন শান্তি নয় প্রতিরোধ সভা করবেন। কিসের প্রতিরোধ? আমরা তো একাত্তরে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলাম। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলাম। আপনারা কিসের প্রতিরোধ করবেন? বাংলার মানুষ যখন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে, কথা বলার ও ভোটের অধিকারের জন্য রাজপথে নামে তখনই আপনারা প্রতিরোধ করবেন। প্রতিরোধ যদি আপনারা করেন, সেই প্রতিরোধের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রতিরোধ হবে। এ বিষয়ে কাউকে ছেড়ে দেওয়া হবে না।’
শুক্রবার (২৬ মে) বিকালে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জয়নগর উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘সময় কিন্তু ঘনিয়ে এসেছে, তাই আওয়ামী লীগ হামলা করলে তাদেরকে পাল্টা দৌড়ানি দেবেন। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন কোনও সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। যেখানে আমাদের ৪০ লাখ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, কোন জেলে ভরবেন? পুরো দেশটাই তো জেলখানা হয়ে গেছে। তাই মামলা ও গুমের ভয় দেখাবেন না।’’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আজকে আমাদের কথা বলার, কথা শোনার, মিছিল-মিটিং করার অধিকার নাই। আমাদের পেটে ভাত নাই, বাংলাদেশের সব টাকা লুট হয়ে যাবে আর বসে বসে তামাশা দেখবো? বাংলাদেশের জনগণ ১৪ বছর তামাশা দেখেছে। আর দেখতে চান না।’
হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘বিএনপি যদি চুরি, ডাকাতি করতে আসে প্রতিরোধ করেন তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু আমরা যখন জনগণের ভোটের ও কথা বলার অধিকার আদায়ের জন্য মিটিং মিছিল করবো আর প্রতিরোধের নামে আমাদের ওপর অত্যাচার চালাবেন, এটা আমরা সহ্য করবো না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, খালেদা জিয়াকে পদ্মা সেতু থেকে ফেলে দেওয়া হবে। এটা কি হত্যার হুমকি নয়? ফজলে নূর তাপস বলেছেন, যেসব সুশীল সমাজের প্রতিনিধি তাদের বুদ্ধি দিতে যাবেন, তাদের বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দেবেন! এটা কি হত্যার হুমকি নয়? এতে কয়জন গ্রেফতার হয়েছে?’
জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রিতার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এস এ জিন্নাহ কবীরের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটুসহ প্রমুখ।