কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, ‘ভারতের নতুন সংসদ ভবনের মানচিত্র যদি কু-মতলবে করা হয়ে থাকে তাহলে ভারতকে এ জন্য খেসারত দিতে হবে। এটা যদি অবুঝের মতো করে থাকে তাহলে এক রকম কথা। আর যদি শতবর্ষ আগের মহাভারতের মহান ভারতের ইতিহাস তুলে ধরার জন্য করে থাকে, তবে তা ভিন্ন কথা।’
শনিবার (৩ জুন) বিকালে টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘মুক্তিযুদ্ধে কাদেরিয়া বাহিনীর ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ‘কাদেরিয়া বাহিনী’ ৭১ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘কত বছর পরে কী হবে জানি না, সম্প্রতি ভারতে একটি নতুন সংসদ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তা দেখতে অনেকটাই খ্রিস্টানদের লাশ বহন করে নিয়ে যাওয়ার বাক্সের মতো। সেখানে ভারতের একটি মানচিত্র দেওয়া হয়েছে। সেই মানচিত্রের মধ্যে নেপাল, ভুটান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশও আছে। তাহলে ওটা কি মহাভারতের মানচিত্র? নাকি আজকের ভারতের মানচিত্র?’
কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় পতাকার মধ্যে আমরা দেশের মানচিত্র দিয়েছিলাম। আমরা ওই মানচিত্র না দিলে ভারত আমাদের এত সমর্থন দিত কি না জানি না। মানচিত্র না দিলে ভারত হয়তো ভাবতে পারতো, তাদের সীমানা নিয়েও বাংলাদেশ টানাটানি করতে পারে। তাই ওই সময় পতাকায় মানচিত্র দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘জয় বাংলার সঙ্গে কোরআন তিলাওয়াতের কোনও সম্পর্ক নেই। আমি জয় বাংলার পাগল, জয় বাংলা আমাদের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এই স্লোগানটি তৈরি করেছিলেন বিপ্লবী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। আমরা সেখান থেকেই নিয়েছিলাম। জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে আমরা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি, এখন পশ্চিমবঙ্গরা সবসময় জয়বাংলা বলে।’
আমেরিকার আরোপ করা ভিসানীতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বলছে, বিএনপিকে জাত করার জন্য আমেরিকা ভিসানীতি দিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি বলছে, আওয়ামী লীগকে সোজা করার জন্যই এই হুমকি। কিন্তু আমি মনে করি, এই হুমকি বাংলাদেশের জন্য লজ্জাকর এবং অপমানের।’
কাদেরিয়া বাহিনীর স্বাস্থ্য বিভাগীয় প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম আমজাদ হোসেনের রচিত গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস সিকদার সভাপতিত্ব করেন। এ সময় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার খোকা বীরপ্রতীক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম আমজাদ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন।