লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (০৮ জুন) দেশের বিভিন্ন জেলার বিদ্যুৎ কার্যালয়ের সামনে এক ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। পাশাপাশি জেলার বিদ্যুৎ কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে দলটি। তবে কয়েকটি জেলায় বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন বলে অভিযাগ করেছেন দলের নেতারা। এর আগে গত মঙ্গলবার ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
চট্টগ্রাম
অসহনীয় লোডশেডিং ও বিদ্যুৎখাতে দুর্নীতির প্রতিবাদে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বিদ্যুৎ অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন এবং স্মারকলিপি দিয়েছে দক্ষিণ জেলা বিএনপি। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রের নির্দেশনা মেনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ অফিসের সামনে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অবস্থান নেন। দুপুর ১২টায় বিএনপি নেতা আবু সুফিয়ান ও এনামুল হক এনামের নেতৃত্বে তাদের প্রতিনিধি দল বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে প্রধান প্রকৌশলী রেজাউল করিমের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দেন।
কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, ‘বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে মানুষ দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে পড়েছে। বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির কারণে উৎপাদন ও বিতরণ চরম সংকটে পড়েছে। বর্তমানে দিনেরাতে ছয়-সাত ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকে না। সরকারের জবাবদিহিতা না থাকায় এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের জন্য সরকারের গণবিরোধী নীতিই দায়ী। ’ এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক এনাম, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম সাইফুল আলম ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইদ্রিস মিয়া।
রাঙামাটি
লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির অভিযোগে অবস্থান কর্মসূচি পালন ও স্মারকলিপি দিয়েছে রাঙামাটি জেলা বিএনপি। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের কারখানার সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়।
এতে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার (দীপু), সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ। জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার (দীপু) বলেন, ‘গ্রামের মানুষ এখন মাত্র দুই-তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ পায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়েছে। বিদ্যুতের অভাবে শিল্প-কলকারখানার উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। দ্রুত এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বিদ্যুৎ বিল দেওয়া বন্ধ করে দেবো আমরা। ’ অবস্থান কর্মসূচি শেষে রাঙামাটি বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুর রহমানের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন জেলা বিএনপির প্রতিনিধি দলের নেতারা।
বান্দরবান
লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির প্রতিবাদে হারিকেন হাতে বান্দরবান জেলা বিদ্যুৎ অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন এবং স্মারকলিপি দিয়েছে জেলা বিএনপি। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা বিদ্যুৎ অফিসের সামনে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন দলের নেতারা। পরে বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাবেদ রেজার সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মা ম্যা চিং, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন তুষার ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। জেলা বিএনপির সভাপতি মা ম্যা চিং বলেন, ‘বর্তমান সরকারের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বিদ্যুতের সংকটে দেশবাসী কষ্ট পাচ্ছে। সব কিছুর দাম বাড়লেও তাদের দুর্নীতি কমছে না। সারাদেশে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে মানুষের এখন দুর্বিষহ অবস্থা। এমন ব্যর্থতার জন্য সরকারের পদত্যাগ করা উচিত। ’
ফেনী
ফেনীতে বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির প্রতিবাদে আয়োজিত জেলা বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি পুলিশের বাধায় ছত্রভঙ্গ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলাম। কিন্তু পুলিশ এসে আমাদের নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিয়ে লাঠিচার্জ করেছে। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
তবে লাঠিপেটার অভিযোগ অস্বীকার করে ফেনী মডেল থানার ওসি মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘শহরে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। তবে কোনও ধরনের লাঠিচার্জ করা হয়নি। ’
কুমিল্লা
অসহনীয় লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির প্রতিবাদে কুমিল্লায় বিদ্যুৎ অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে দক্ষিণ জেলা বিএনপি। বৃহস্পতিবার নগরীর শাসনগাছা বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ও লোডশেডিং মুক্ত বিদ্যুৎ চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিদ্যুৎ অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলীকে স্মারকলিপি দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জসিম উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক উৎবাতুল বারী আবু।
নেত্রকোনা
অবিলম্বে লোডশেডিং বন্ধ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবিতে নেত্রকোনায় অবস্থান কর্মসূচি পালন ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে কুরপার এলাকায় জেলা বিএনপির আয়োজনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচি শেষে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএমের কাছে স্মারকলিপি দেন দলের নেতারা।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম মনিরুজ্জামানের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আনোয়ারুক হক, যুগ্ম আহ্বায়ক বজলুর পাঠান ও ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সারোয়ার আলম। এতে বক্তারা বলেন, বিদ্যুতের সংকটে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। গ্রামের মানুষ চাহিদার তুলনায় ৩০-৩৫ শতাংশ বিদ্যুৎ কম পাচ্ছে। এতে সবার ভোগান্তিতে বেড়ে গেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে লোডশেডিং বন্ধ করার দাবি জানাই।
জামালপুর
‘অসহনীয় লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির প্রতিবাদে’ জামালপুরে পুলিশের বাধার মধ্য দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে জামালপুরে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এর আগে বিএনপির পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল জামালপুর বিদ্যুৎ অফিসের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মহিবুল আজাদ রুবেলের কাছে স্মারকলিপি দেন।
দলীয় সূত্র জানায়, কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা বসাকপাড়ার সিঅ্যান্ডবি মোড় থেকে মিছিল নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসের যাওয়ার সময় পুলিশ সদরঘাট মসজিদ এলাকায় তাদের বাধা দেয়। সেখানে অবস্থান নিয়ে এক ঘণ্টা কর্মসূচি পালন করেন তারা।
জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি লিয়াকত আলীর সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম খান সজিবের সঞ্চালনায় অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়ারেছ আলী মামুন। তিনি বলেন, ‘সারাদেশে বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। এই সরকার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেবে বলে মানুষকে আশার কথা শোনালেও আজ অসহনীয় লোডশেডিং। সরকার বিদ্যুৎসহ সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। তাই জণগণ আর এই সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। ’
কুড়িগ্রাম
অসহনীয় লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক ‘দুর্নীতির’ প্রতিবাদে বিদ্যুৎ অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ করেছে বিএনপির কুড়িগ্রাম জেলা কমিটির দুটি বিবাদমান গ্রুপ। বৃহস্পতিবার দুপুরে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির কুড়িগ্রাম কার্যালয়ের সামনে পৃথক পৃথক এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে উভয় গ্রুপ নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর স্মারকলিপি দেয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সামনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রানার নেতৃত্বে তার গ্রুপের নেতাকর্মীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় বক্তব্য রাখেন সাইফুর রহমান রানা, যুগ্ম সম্পাদক হাসিবুর রহমান হাসিব ও সাবেক মেয়র আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ। পরে লোডশেডিং থেকে জনদুর্ভোগ কমাতে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর স্বারকলিপি দেন তারা।
রানা গ্রুপের অবস্থান কর্মসূচি শেষে একই স্থানে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ করে জেলা বিএনপির সভাপতি তাসভীরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আরেকটি অংশ। জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদের নেতৃত্বে এই গ্রুপের নেতাকর্মীরা নেসকোর সামনে ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এতে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, জেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক আশরাফুল হক রুবেল ও ছাত্রদল নেতা আমিমুল ইহসান প্রমুখ। পরে তাদের প্রতিনিধি দল নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে স্মারকলিপি দেন।
বগুড়া
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবিতে বগুড়া জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্বারকলিপি দিয়েছে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার হেনার নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার দুপুরে নেসকো বগুড়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল মোন্নাফের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়। এর আগে শহরের নবাববাড়ি সড়কে দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহীদ খোকন পার্কের পাশের রাস্তা দিয়ে নেসকো কার্যালয়ে আসতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। তখন তারা রাস্তায় বসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক এমপি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, জয়নাল আবেদীন চাঁন ও ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল। তারা বলেন, বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে মানুষ দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। গ্রামে চাহিদার তুলনায় ৩০-৩৫ শতাংশের কম বিদ্যুৎ পাচ্ছে। শিল্প কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে লাখ লাখ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছেন।