‘এবার ২০১৪ ও ২০১৮-এর মতো নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘২০১৪-এর নির্বাচনে ১৫৪ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেছে। ১৮-তে আগের রাতে ভোট নিয়ে গেছে। এবার সেটা চলবে না। এমন নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। এবার জনগণ জেগে উঠেছে। তারেক রহমান ১০ দফা দাবি দিয়েছেন।’

রবিবার (১১ জুন) দুপুরে গাজীপুরের তেলিপাড়া এলাকার একটি কনভেনশন সেন্টারে বিএনপি জেলা মহানগর দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, ‘গাজীপুর থেকে আন্দোলন যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। অনেকে শহীদ হয়েছিলেন। আপনাদের নেতারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। গাজীপুরের অনেক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, গাজীপুর ব্রিটিশ ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে- এখন লড়াই সংগ্রাম করছে বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য।’

আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘৯৬-তে তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করেছিল। সেই দাবিতে ১৭৩ দিন হরতাল করেছিল। জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টিকে একসঙ্গে নিয়েছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। ১৭৩ দিন হরতালের পরে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে স্বাগত জানিয়ে সংসদের প্রথম অধিবেশনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধানকে সংবিধানে সন্নিবেশিত করেছিলেন।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই সরকার মুখে বলে এক কথা, কাজে আরেক। ১৯৭০ সালে তারা ভোট করেছিল। তখন বলেছিল, বাংলাদেশ শ্মশান কেন? বাংলাদেশকে স্বর্গ বানিয়ে দেবে। এসব কথা বলে মানুষের ভোট নিয়ে ১৯৭০ সালে তখন যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, মাত্র কিছু দিনের মধ্যে তারা সব কিছু ভুলে সেই বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করেছে। তখন দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। যারা বয়স্ক মানুষ তারা জানেন, সেই রংপুরের বাসন্তী তার লজ্জা ঢাকার জন্য একটা শাড়িও পায়নি। মাছ ধরার জাল পরেছিল।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জনগণের দল নয়। মুখে বলবে গণতন্ত্রের কথা কিন্তু কাজ করবে তার উল্টো। আওয়ামী লীগ প্রকৃতপক্ষে একটা সন্ত্রাসী দল। তাদের গোটা বডি ল্যাংগুয়েজে সন্ত্রাসী ছাড়া আর কিছু নেই। আওয়ামী লীগকে চিনতে হলে দুটো জিনিস খেয়াল করতে হবে, একটা দুর্নীতি, আরেকটা সন্ত্রাস।’

মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এম মনজুরুল করিম রনির সভাপতিত্বে বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, জেলা সভাপতি ফজলুল হক মিলন, মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম মনজুরুল করিম রনি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।