চলছে ঈদের তৃতীয় দিন। দীর্ঘদিন ধরে নিত্যপণ্যের দাম মানুষের নাগালের বাইরে। এর মধ্যে কয়েকগুণ বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। সরবরাহ কম ও পরিবহন সংকটের দোহাই দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে ঈদের ছুটি শেষ হলেই স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে মরিচ আসবে বলে জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।
শনিবার (১ জুলাই) সরেজমিনে রাজবাড়ীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচা মরিচের কেজি ৬০০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। আড়তদাররা খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে। অধিকাংশ বাজারেই খুচরা ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা বলছেন, ঈদে পরিবহন সংকট ও বৃষ্টির কারণে কাঁচা মরিচের সরবরাহ কম। ফলে বাজারে দাম অতিরিক্ত।
ক্রেতারা বলছেন, পরিবহন ও বৃষ্টির দোহাই দিয়ে দাম বাড়ানো ব্যবসায়ীদের এক ধরনের কারসাজি। তবে ক্রেতাদের দাবি, ১৫ দিন আগেও এই মরিচের কেজি ছিল মাত্র ৫০ টাকা। সে মরিচ এখন ৬০০ টাকা।
খানখানাপুর বাজারে সবজি বিক্রেতা হামিদুল হক বলেন, ‘পাইকারি হিসাবে কাঁচা মরিচের দাম প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা করে কেনা পড়ে। এর মধ্যে আবার রয়েছে পরিবহন খরচ। তাই বাধ্য হয়ে ৬০০ টাকা কেজি বিক্রি করতে হচ্ছি। ঈদকে কেন্দ্র করে গাড়ি কম। তবে আশা করছি, ২-৪ দিনের মধ্যে আবার স্বাভাবিক হবে বাজার।’
গোয়ালন্দ বাজারের ক্রেতা আলিমুজ্জামান মিলন বলেন, ‘কাঁচা মরিচের এতো বেশি দাম কখনও কল্পনাও করতে পারিনি। ৬০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে-এটা ভাবা যায়? ৪০ টাকার কাঁচামরিচ নিতে গেছিলাম দোকানদার আমাকে নিয়ে হাসে। কী একটা অবস্থা! জানি না এ বাজার কবে নিয়ন্ত্রণ হবে।’
অন্যদিকে বাজারে প্রতি কেজি ঝিঙা ৫০, ঢ্যাঁড়স ৩৫ থেকে ৪০, ধুন্দল ৪০ থেকে ৫০, বেগুন ৭০, শসা ৮০ থেকে ৯০, বরবটি ৪৫, চিচিঙ্গা ৬০, পটল ৩০, কাঁচা পেঁপে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রাজবাড়ী পৌর এলাকার বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, ‘১৬ হাজার টাকার বেতনে চাকরি করি। যদি একটি পরিবারে প্রতি মাসে শুধু কাঁচা বাজার করতেই ৫-৭ হাজার টাকা লাগে তবে অন্য জিনিসপত্র কীভাবে কিনবো? তারপর আবার কাঁচা মরিচ নিয়ে যে লঙ্কাকাণ্ড শুরু হয়েছে তাতে আর মরিচ দিয়ে রান্না করে খাওয়া যাবে না। ৫০-৬০ টাকা কেজির কাঁচা মরিচ এখন ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা দেখছি, সাধারণ মানুষ বাজারে গেলে মাথায় হাত পড়ে যাবে।’
আরেক ক্রেতা খোকন উদ্দিন বলেন, ‘বেতন পাই ১২ হাজার টাকা আর কাঁচা মরিচের কেজি ৬০০ টাকা। দাম শুনে না কিনে শুকনো মরিচ কিনে বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নানান অজুহাতে কাঁচা মরিচেরও দাম বাড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা। নিয়মিত বাজার মনিটরিং থাকলে লাফিয়ে দাম বৃদ্ধি হতো না।’
বাজার করতে আসা মেহেরুনন্নেছা বলেন, ‘বাজার করতে এসে দেখছি, সব কিছু ক্রয় সীমার বাইরে। কয়েকদিন আগেও কাঁচা মরিচ ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। একদিন আগেও ছিল ৫০০ টাকা, সেই কাঁচা মরিচ এক দিনের ব্যবধানে ৬০০ টাকা হয়ে গেছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না।’
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর রাজবাড়ী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কাজী রকিবুল হাসান বলেন, ‘উত্তরবঙ্গসহ কয়েকটি জেলায় অতিবৃষ্টির কারণে মরিচের উৎপাদন কমেছে। এ ছাড়াও কোরবানির ঈদের কারণে পরিবহন সংকটে স্থানীয় বাজরে কাঁচা মরিচের সরবরাহ কমে যায়। ফলে বাজারগুলোতে মরিচের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার ভারত থেকে মরিচ আমদানি শুরু করেছে। ঈদের কারণে বন্দরগুলো বন্ধ থাকায় কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। আশা করছি, ২/৪ দিনের মধ্যে ভারত থেকে আমদানি করা মরিচ বাংলাদেশে ঢুকলে দাম কমে যাবে। এ ছাড়াও আমাদের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর এ বিষয়ে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করবে।’
উল্লেখ্য, ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত মঙ্গলবার থেকে আজ শনিবার পর্যন্ত দেশের সব স্থলবন্দর বন্ধ রয়েছে। আগামীকাল রবিবার থেকে সব বন্দরে আমদানি ও রফতানি কার্যক্রম চলবে।