নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জের চনপাড়ায় এলাকায় দুপক্ষের সংঘর্ষে চার জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার (২১ জুলাই) দিবাগত রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় চনপাড়া এলাকায় শমসের আলী ও জয়নাল আবেদিন বাহিনীর মধ্যে দফায় দফায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধরা হলেন- আলমগীর হোসেন (২৮), হৃদয় খান (৩০), ইসমাইল (৩০) ও ইলিয়াছ (১৭)। আহতরা সবাই চনপাড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।
আহতদের স্বজনরা জানান, এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চনপাড়া বাজারে শমসের নামের এক ব্যক্তি হঠাৎ এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে একই এলাকার আলমগীরের বাঁ পায়ে, হৃদয়ের কোমরে, ইসমাইলের হাতে ও ইলিয়াসের পায়ে একটি করে গুলি লাগে। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের চিকিৎসা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে স্থানীয় একটি মাঠে গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন শমসের আলী। অনুষ্ঠান শেষে তার অনুসারীরা বাড়িতে ফেরার সময় জয়নাল আবেদিনের লোকজন তাদের ওপর হামলা করে ও ইটপাটকেল ছুড়ে। এ নিয়ে দুপক্ষের লোকজন সংঘর্ষ জড়িয়ে পড়েন। এ সময় তারা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছেন। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৫-৬ জন আহত হয়েছেন।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. বাচ্চু মিয়া জানান, গতরাতে নারায়ণগঞ্জের চনপাড়া থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চার জনকে ঢাকা মেডিক্যালে আনা হয়। বর্তমানে জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গতকাল রাত থেকে সকাল পর্যন্ত জয়নাল ও শমসের বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে চার জন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার বা আটক করা হয়নি। পুলিশের অভিযান চলছে। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চনপাড়া এলাকায় মাদকের অনেকগুলো আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় তারা চনপাড়া বস্তিকে ফের অশান্ত করতে চাচ্ছে। শুনেছি, গতকাল রাতে শমসের বাড়িতে কে বা কারা ইটপাটকেল ছুড়ে মেরেছে- এ নিয়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য নেওয়ার জন্য জয়নাল ও শমসের আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও পাওয়া যায়নি।