কিশোরগঞ্জ শহরে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে কুপিয়ে জখম করে ‘আত্মহত্যা’ করেছেন স্বামী। মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) বিকালে শাহী কলোনিতে এ ঘটনা ঘটে।
আত্মহত্যাকারী ব্যক্তির নাম লিটন ঘোষ (৪২)। তিনি জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার জঙ্গলবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। শহরের ইসলামিয়া সুপারমার্কেটের সামনে পান-সিগারেটের দোকান ছিল তার।
ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জখম হওয়া তার স্ত্রী মিতু ঘোষকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লিটন ঘোষ তার স্ত্রীকে নিয়ে শাহী কলোনিতে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। এ দম্পতির দুই মেয়ে রয়েছে। লিটনের বাবা ও মা বেশ কিছুদিন ধরে ছেলের বাসায় থাকছিলেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে স্বামীর সঙ্গে রাগ করে কয়েকদিন আগে বাবার বাড়ি চলে যান। এ নিয়ে সংসারে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়।
আজ দুপুরের দিকে মিতু ফিরে এলে দুজনের মধ্যে আবারও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে বাসার দরজা বন্ধ করে দেন তারা। কিছুক্ষণ পর স্ত্রীর চিৎকার শুনে পাশের বাসায় থাকা লিটনের বোনসহ কয়েকজন দরজা ভেঙে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত মিতুকে উদ্ধার করে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
স্থানীয়রা জানান, এর আধাঘণ্টা পর বোনের বাসা থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় লিটনকে উদ্ধার করে একই হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আর মিতুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মিতু করিমগঞ্জ উপজেলা খুদিরজঙ্গল গ্রামের তাপস ঘোষের মেয়ে। স্ত্রীকে কুপিয়ে ছোটবোন শান্তার বাসায় গিয়ে আত্মহত্যা করে লিটন। তিনি কীভাবে আত্মহত্যা করেছেন- তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেননি। শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, তার গলায় কোনও দাগ পাওয়া যায়নি। তিনি বেশি পরিমাণে ঘুমের ওষুধ বা বিষাক্ত কিছু খেয়ে থাকতে পারেন। ময়নাতদন্তের পর তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পাশের বাসার শাওন নামে এক নারী জানান, বেশ কয়েকদিন ধরে পরিবারটিতে ঝামেলা চলছিল।
লিটনের বাবা গোপাল ঘোষ জানান, ঝামেলা দেখে তিনি সোমবার মেয়ের বাড়ি কটিয়াদীতে চলে যান। আজ দুর্ঘটনার খবর শুনে এখানে এসেছেন। কীভাবে কী হলো কিছু জানেন না।
কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আল আমিন বলেন, লিটন তার বোনের বাসায় আত্মহত্যা করেছেন। তার আহত স্ত্রী ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। পুরো বিষয়টি তদন্তে করে দেখা হচ্ছে। মিতু কীভাবে আহত হলো তার স্বামী লিটনের মৃত্যুর বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে থানায় এখনও কেউ অভিযোগ করেননি।