গাজীপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় সাংবাদিকসহ তিন জন নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন আরও ছয় জন। শুক্রবার (৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলার কাপাসিয়া এবং ভোরে সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়ী বাইপাইল (সাইনবোর্ড) এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- জেলার কাপাসিয়া উপজেলার পাবুর গ্রামের মৃত শহীদ শেখের ছেলে সাংবাদিক মঞ্জুর হোসেন মিলন (৫০), নীলফামারী সদর উপজেলার দারোয়ানী গ্রামের রাশিদুল ইসলামের ছেলে শাহ আলম (৩০) এবং জুয়েল রানা (৩০)। জুয়েলের বাবার নাম জানা যায়নি।
মিলন গাজীপুর সিটি প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, দৈনিক করতোয়া ও দৈনিক ভোরের দর্পণের গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি ছিলেন।
কাপাসিয়া থানার ওসি এইচ এম লুৎফুল কবির জানান, সাংবাদিক মিলন গাজীপুর শহরের এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন। শুক্রবার সকালে মোটরসাইকেলযোগে কাপাসিয়া গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে গাজীপুর-কাপাসিয়া সড়কের কোটবাজালিয়া এলাকায় পৌঁছালে বালুভর্তি ড্রামট্রাক তাকে চাপা দেয়। সড়কে পড়ে গিয়ে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
গাজীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক মাসুদুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক মাহতাব উদ্দিন আহমদ গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
কোনাবাড়ী থানার ওসি কে এম আশরাফ হোসেন জানান, শুক্রবার ভোরে কাশিমপুরের চক্রবর্তী থেকে ৮/১০ জন বন্ধু একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল বেড়ানোর উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। তাদের বহনকারী মাইক্রোবাস কোনাবাড়ীর বাইমাইল (সাইনবোর্ড) এলাকায় পৌঁছালে মাইক্রোবাসের একটি চাকা ফেটে গেলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এসময় মাইক্রোবাসটি মহাসড়কের পাশে দাঁড়ানো একটি কাভার্ডভ্যানে ধাক্কা লেগে সড়ক বিভাজকের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়েমুচড়ে গেলে মাইক্রোবাসের পেছনের সিটে বসা শাহ আলম ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত জুয়েল রানাকে উদ্ধার করে কোনাবাড়ী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তেতুইবাড়ী এলাকার শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কেপিজে মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, মাইক্রোবাসের চালকসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হলেও আহত অবস্থায় চালক পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।