সাংবাদিক মিলন নিহতের ঘটনায় ট্রাকচালক রিমান্ডে

গাজীপুরের সাংবাদিক মঞ্জুর হোসেন মিলনকে চাপা দেওয়া ড্রাম ট্রাকের চালক আহাদ মিয়ার একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) গাজীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আঁখি বেগম শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আহাদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন কাপাসিয়া থানার এসআই মিঠুন। আহাদ মিয়া (২৬) গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার আতিক মিয়ার ছেলে। 

এর আগে গত ৪ আগস্ট সকালে কাপাসিয়া উপজেলার কোর্টবাজালিয়া বাজার এলাকায় বেপরোয়া গতির বালুবোঝাই ড্রাম ট্রাকের চাপায় সাংবাদিক মঞ্জুর হোসেন মিলন (৫২) নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করেন। মামলার পর ৭ আগস্ট সকালে র‌্যাব সদর দফতর গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১ এবং র‌্যাব-১০-এর আভিযানিক দল মুন্সীগঞ্জের লৌহজং এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্রাকচালক আহাদ মিয়াকে গ্রেফতার করে।

নিহত মঞ্জুর হোসেন মিলন গাজীপুর সিটি প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, দৈনিক ভোরের দর্পণ ও দৈনিক করতোয়া পত্রিকার গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি এবং সাপ্তাহিক গাজীপুর দর্পণ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ছিলেন।

এ ছাড়া তিনি বৈশাখী টেলিভিশন, দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক দিনকালে কাজ করেছেন। কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের তিনবারের সাধারণ সম্পাদক এবং কাপাসিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

র‌্যাব জানায়, চালক আহাদের মাঝারি যানবাহন চালানোর ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলেও ভারী যানবাহন চালানোর বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। এ ছাড়া ট্রাকটির ধারণক্ষমতা ৮ টন থাকা সত্ত্বেও আনুমানিক ১৪ টন ওজনের বালুবোঝাই করে চালিয়ে আসছিলেন। দুর্ঘটনার পর তিনি কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে কোর্টবাজারে আসেন এবং অটোযোগে কালীগঞ্জে গিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করেন। পরে সেখান থেকে তার বাড়ি পৌঁছান। মামলা দায়েরের কথা জানতে পেরে গ্রেফতার এড়াতে লৌহজং এলাকায় তার আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় গ্রেফতার হয়।