এর আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও সেদিন মামলার অন্যতম আসামি র্যাবের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা তারেক সাঈদকে আদালতে হাজির না করায় সাক্ষ্যগ্রহণ পেছানো হয়।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, এর আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি তারেক সাঈদ অসুস্থতার কারণে আদালতে হাজির হননি। তাই সেদিন সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। পরে আদালত সোমবার ২৯ ফেব্রুয়ারি নতুন করে তারিখ নির্ধারণ করেন। এদিন সকাল সাড়ে ১০টার পর সাত খুনের ঘটনার একটি মামলার বাদী বিজয় কুমার পালের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। পরে অপর মামলার বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটির সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে বিজয় পাল হলেন নিহত অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের জামাই ও সেলিনা ইসলাম বিউটি হলেন নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী।
এর আগে সকালে সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন, তারেক সাঈদসহ ২৩ আসামিকে কঠোর নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহৃত হন। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের ও ১ মে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
তদন্ত শেষে প্রায় এক বছর পর গত ৮ এপ্রিল নূর হোসেন, র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। কিন্তু অভিযোগপত্র থেকে পাঁচ আসামিকে বাদ দেওয়ায় এবং প্রধান আসামি নূর হোসেনের জবানবন্দি ছাড়া অভিযোগপত্র আদালত আমলে নেওয়ায় ‘নারাজি’ আবেদন করেন সেলিনা ইসলাম বিউটি। আবেদনটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও জজ আদালতে খারিজ হয়ে গেলে বিউটি উচ্চ আদালতে যান। হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়, পুলিশ চাইলে মামলাটির ‘অধিকতর তদন্ত’ করতে পারে এবং ‘হত্যার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনার’ ধারা যুক্ত করে নতুন করে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারে।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি সাত খুনের দুটি মামলায় নূর হোসেন ও র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এ মামলায় নূর হোসেন ও র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ মোট ২৩ জন কারাগারে আটক রয়েছেন। আর চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে এখনও ১২ জন পলাতক।
/এআর/এসএম/এজে/