জেল থেকে বেরিয়ে আরেক শিশুকে হত্যা, পোশাকশ্রমিক গ্রেফতার

গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে নিখোঁজের দুই দিন পর বাসার সিঁড়ির নিচে পলিথিনে মোড়ানো ছয় বছরের শিশুর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পোশাকশ্রমিক আরিফুল ইসলামকে (২৯) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি আশুলিয়া থানায় সাত বছরের আরেক শিশু হত্যা মামলার প্রধান আসামি। সম্প্রতি জেল থেকে জামিনে মুক্ত হন। গত ১১ নভেম্বর কোনাবাড়ী থানার হরিণাচালা এলাকার শিশু বায়েজিদ হোসেনকে হত্যা করে লাশ সিঁড়ির নিচে রেখে দেন। আরিফুল পাবনার সুজানগর উপজেলার ভাতশালা গ্রামের তফিজ উদ্দিনের ছেলে। 

রবিবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ-উত্তর) আবু তোরাব মো. শামছুর রহমান প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান। এ সময় অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ- উত্তর) খায়রুল ইসলাম ও কোনাবাড়ী জোনের সহকারী কমিশনার আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

আবু তোরাব মো. শামছুর রহমান বলেন, ‘কোনাবাড়ী থানার হরিণাচালা এলাকার মজিবুর রহমানের বাসায় সপরিবারে ভাড়া থাকেন খালেদ মাহমুদ রাসেল। তার বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকায়। গত ১১ নভেম্বর তার শিশুসন্তান বায়েজিদ হোসেন নিখোঁজ হয়। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান পাননি। এ ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়। ১৩ নভেম্বর ভোরে বাসার দোতলার সিঁড়ির নিচে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেন খালেদ। পরে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাসার দোতলার ভাড়াটিয়া আরিফুলকে গ্রেফতার করা হয়।’

শামছুর রহমান আরও বলেন, ‘গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আরিফুল জানান ১১ নভেম্বর পোশাক কারখানায় চাকরির ইন্টারভিউ দিয়ে বাসায় ফেরেন। সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠার সময় বায়েজিদের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। তখন শিশুটির গালে থাপ্পড় দেন আরিফুল। এতে শিশুটি চিৎকার করলে মুখ চেপে ধরে নিজের রুমে নিয়ে যান। সেখানে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ পলিথিনে মুড়িয়ে সিঁড়ির নিচে রেখে দেন। আরিফুল আশুলিয়া থানায় সাত বছরের আরেক শিশু হত্যা মামলার প্রধান আসামি। সম্প্রতি জেল থেকে জামিনে মুক্ত হয়েছেন।’