অনলাইন ক্যাসিনোর মূলহোতা হিসেবে পরিচিত সেলিম প্রধান বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার আমার বিপক্ষে নয়, তবে একটি বাহিনীর প্রধান আর তার দুই ভাই শীর্ষ সন্ত্রাসীর মনমতো কাজ হয়নি বলে আমাকে ক্যাসিনোর মূলহোতা বানিয়েছে। আমাকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠিয়ে দিয়েছে। এখনও সতর্ক করছি, মাস্তানি বাদ দিয়ে দেন, আই অ্যাম ব্যাক।’
শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভুলতা সাওঘাট এলাকায় মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিজয় র্যালি শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
সেলিম প্রধান বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে হওয়া ষড়যন্ত্র সম্পর্কে বিশ্ববাসী জানে। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, পৃথিবীর কেউ বলতে পারবে না আমার এক টাকা অবৈধ আছে। আমার জীবনে কোনও অবৈধ আয় নেই। কিন্তু আমি যে এলাকায় বড় হয়েছি; ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসীরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে। তারা আমাকে হিংসা করে। রূপগঞ্জ আমার সন্তানের মতো। রূপগঞ্জকে মডেল হিসেবে তৈরি করবো। প্রতিটি ইউনিয়নে আমার একটা করে অফিস হবে। দুটি পৌরসভায় আমার অফিস হবে। রূপগঞ্জের সব জায়গায় আমাদের লোক থাকবে। ওয়ান ফ্যামিলি নামে আমাদের একটা ফেসবুক পেজ থাকবে। রূপগঞ্জের সবাই একটা পরিবার। এখানে যেকোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হলে আপনারা ভিডিও করে সেই পেজে আপ করবেন। এখানে মাদক ব্যবসা চলবে না, কোনও সন্ত্রাসী থাকবে না। দুর্নীতিমুক্ত ও বিদেশি সন্ত্রাসীদের মাস্তানি বন্ধ করাসহ শিক্ষিত রূপগঞ্জ বানিয়ে ছাড়বো। বিজয় দিবসে এটাই আমার ওয়াদা।’
আমার রাজনীতি করার ইচ্ছে নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাজনীতিবিদরা যেন ভালোভাবে রাজনীতি করে সেটা আমি চাই। আমি নির্বাচন করবো না। তবে এলাকায় মাস্তানি হতে দেবো না। রূপগঞ্জের মানুষকে আর ধোঁকা দিয়েন না। এখানের জনগণ অনেক বেশি, আপনারা সন্ত্রাসীরা অল্প সংখ্যক। বিদেশিদের এখানে রংবাজি চলবে না। বিদেশিদের বলছি, মাস্তানি কইরেন না। দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসীমুক্ত রূপগঞ্জ চাই।’
প্রসঙ্গত, ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চলাকালে ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সেলিম প্রধানকে আটক করা হয়। পরে তার রাজধানীর গুলশানের বাসা, বনানীর বাসা ও অফিসে অভিযান চালায় র্যাব। অভিযানে ২৯ লাখ টাকা, বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা জব্দ করা হয়। পরে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে সেলিমের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ২৭ অক্টোবর মামলা করে দুদক। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় সংস্থাটি। ২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের মামলায় সেলিম প্রধানকে আট বছর কারাদণ্ড ও ১১ লাখ টাকা জরিমানা করেন ঢাকার বিশেষ আদালত। সম্প্রতি জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বের হন তিনি।