স্যাংশন ও হুমকি-ধমকি শেখ হাসিনাকে এক ইঞ্চিও নড়াতে পারেনি: চিফ হুইপ

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী নূর-ই আলম চৌধুরী বলেছেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যে দেশ বিরোধিতা করেছিল, যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছিল, বড় ধরনের হুমকি দিয়েছিল—তবু সে দেশের কাছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাথা নত করেননি। একইভাবে এখন যারা নির্বাচন বানচালের জন্য স্যাংশন দিচ্ছে, বড় ধরনের হুমকি দিচ্ছে—তাদের এসব হুমকি-ধমকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এক ইঞ্চিও নড়াতে পারেনি। ৭ জানুয়ারি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে ইনশাআল্লাহ।’

বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে মাদারীপুরের শিবচরের বাঁশকান্দি ইউনিয়নের হাজেরা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভায় নৌকায় ভোট চেয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন তিনি।

নূর-ই আলম চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপির সময়ে শিক্ষার মানের উন্নয়ন হয়নি, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হয়নি, মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি এবং খাদ্যের নিশ্চয়তা নিশ্চিত হয়নি। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার মূল্যবোধ, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছেন বলেই আজকের এই উন্নয়ন আমরা দেখছি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পদ্মা সেতুর কাজ হাতে নিয়েছিল। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবার ক্ষমতায় আসার পর কাজ শুরু হলে দেশি-বিদেশি অপশক্তি মিথ্যা অপবাদ দিয়ে সেতুর কাজ বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তখন বলেছিলেন আমরা নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু করবো। অনেকে ভাবতেও পারেনি দেশের টাকায় পদ্মা সেতু হবে। আজ পদ্মা সেতু দৃশ্যমান। এই সেতু দিয়ে শুধু আওয়ামী লীগের লোকজনই পার হয় না; বিএনপির লোকজনও পার হয়। আমরা শিবচরের মানুষ কল্পনাও করতে পারিনি রেললাইন পাবো। এসব শেখ হাসিনার উন্নয়নের কারণেই পেয়েছি।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি, এখন স্মার্ট বাংলাদেশ করতে যাচ্ছি উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, ‘উন্নত বাংলাদেশ করতে যাচ্ছি আমরা। বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছিল, তারা বাংলাদেশকে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের মতো তৈরি করতে চেয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর স্বাধীনতাবিরোধীদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তারা বসিয়েছিল। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারসহ নানা পদে স্বাধীনতাবিরোধীদের দায়িত্ব দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা তখন মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে দেশে এসেছিলেন। তিনি এসেছিলেন বলেই আজকে আমরা উন্নত বাংলাদেশ দেখছি।’ 

জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে চাই, ভোটের দিন কোনও নেতাকর্মী অতিরঞ্জিত কিছু করলে তার দায় শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রে গিয়ে ভোটারদের নৌকায় ভোট দিতে হবে। ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে।’

জনসভায় বাঁশকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থক ছাড়াও নানা শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় নৌকার স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ।

বাঁশকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ মল্লিকের সভাপতিত্বে জনসভায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুনির চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. সেলিম, বাঁশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান খোকনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।