সাভারে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনি ক্যাম্পে ভাঙচুর, ৩ জন আহত

সাভারে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের (ট্রাক প্রতীক) নির্বাচনি ক্যাম্প ভাঙচুর করে তিন জনকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে নৌকার প্রার্থী ডা. এনামুর রহমানের সমর্থকদের বিরুদ্ধে । এ ঘটনায় বাইপাইল-আব্দুল্লাপুর ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকলীগের নেতাকর্মীরা। পরে পুলিশের আশ্বাসে তারা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।

রবিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইয়ারপুর ইউনিয়নের সোনামিয়া মার্কেট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- জাতীয় শ্রমিক লীগ আশুলিয়া আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক সানাউল্লাহ ভূঁইয়া সানি, সাগর, সুজন, এনামুল হক ও নুর ইসলাম। তারা সবাই ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের কর্মী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইয়ারপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও ১৭ মামলার আসামি রাজন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে সোনামিয়া মার্কেট এলাকায় ট্রাক প্রতীকের নির্বাচনি ক্যাম্পে ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে শ্রমিক নেতা ও ট্রাক প্রতীকের সমর্থক সানাউল্লাহসহ চার জন সেখানে গেলে তাদেরকে কুপিয়ে জখম করে নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে নারী ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হামলায় আহত সানাউল্লাহ সানি ভূঁইয়া বলেন, ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের পাশে সোনামিয়া মার্কেটে ট্রাক প্রতীকের একটি নির্বাচনি ক্যাম্প রয়েছে। সেই অফিস ভাঙচুর করে রাজন ভূঁইয়া। খবর পেয়ে আমরা চার জন দুটি মোটরসাইকেলযোগে সেখানে যাই এবং রাজন ভূঁইয়াকে বলি নির্বাচন করার সবারই অধিকার আছে। তুমি ট্রাক প্রতীকের ক্যাম্প ভাঙচুর করেছ কেন? তুমি যে যার নির্বাচন করো তার করো, ট্রাক প্রতীকে যারা নির্বাচন করে তারা তাদের মতো করুক। এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলের পাশেই রাজনের ব্যক্তিগত অফিস থেকে চাপাতি, চাইনিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। তিন/চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। আমরা আহত হলে সমর্থকরা উদ্ধার করে স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করে।

এদিকে, ঘটনার পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের জামগড়া ছয়তলা এলাকা অবরোধ করেন শ্রমিকলীগের নেতাকর্মীরা। প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধের পর রাত ১২টার দিকে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন তারা।

আহত কর্মীদের হাসপাতালে দেখতে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ডা. এনামুর রহমানের সরাসরি নির্দেশে রাজন মেম্বারের নেতৃত্বে ২৫/৩০ জন সন্ত্রাসী আমার দুটি নির্বাচনি ক্যাম্প ভাঙচুর করেছে। আমার কর্মীদের ওপর হামলা করেছে। আমি নির্বাচন কমিশন ও অনুসন্ধান কমিটিকে বিষয়টি জানিয়েছি।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ওসি এ এফ এম সায়েদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে দুই জনকে আটক করা হয়েছে।