পুলিশের সোর্সের কবজি বিচ্ছিন্নের ঘটনায় গ্রেফতার ৪

গাজীপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে পুলিশের সোর্স মাসুদকে (৩৫) রামদা দিয়ে কুপিয়ে হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় চার আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১২ মার্চ) বেলা সাড়ে ১২টায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) উপকমিশনার (অপরাধ) আবু তোরাব মো. শামছুর রহমান তার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

শনিবার (৯ মার্চ) ভোর সোয়া ৬টায় বাসন থানাধীন ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের পেয়ারা বাগান (ভি অ্যান্ড আর) গার্মেন্টসের গলি মনিরের টিনশেড বাড়ির পেছনে ড্রেনের ওপর কবজি বিচ্ছিন্নের ঘটনা ঘটে।

আহত মাসুদ কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার চারতলা গ্রামের সামছুলের ছেলে। তিনি গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানার মোগরখাল এলাকায় ভাড়া থাকেন।

গ্রেফতাররা হলেন রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বড় রসুল গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে সুমন মিয়া (৩৪), একই উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের সোহরাব হোসেনের ছেলে সোহেল রানা (২৫), মাদারীপুরের কালকিনী উপজেলার গোপালপুর গ্রামের হাসমত ব্যাপারীর ছেলে আসাদ ব্যাপারী আসলাম (৩৪) এবং গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানাধীন হক মার্কেট এলাকার জাহিদুল ইসলামের ছেলে ফজলু (৩২)। তারা গাজীপুরের বাসন থানা এলাকায় ভাড়া থাকতো। সোমবার (১১ মার্চ) দুপুর সোয়া ২টায় রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

উপকমিশনার (অপরাধ) আবু তোরাব মো. শামছুর রহমান জানান, গ্রেফতার আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে আহত মাসুদ আসামি সুমন মিয়া এবং আসলামকে গ্রেফতারে বাসন থানা পুলিশকে সহায়তা করে। এর জেরে রবিবার ভোর সোয়া ৬টায় আসামি সোহেল রানার মাধ্যমে মাসুদকে বাসন থানাধীন ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের পেয়ারা বাগান (ভি অ্যান্ড আর) গার্মেন্টসের গলি মনিরের টিনশেড বাড়ির পেছনে ড্রেনের ওপর ডেকে নিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মাথার বাঁ পাশ, দুই পা রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় তার বাঁ হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করে ফেলে আসামিরা। পরে কাটা কবজি এবং রামদা বাঁশে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখে।

৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। অবস্থার অবনতি হলে স্বজনেরা মাসুদকে উত্তরা শিনশিন জাপান হাসপাতাল চিকিৎসাধীন রাখে। তিনি বর্তমানে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।