ভূ-মধ্যসাগরে নিহত আলীর স্বজনদের বাড়িতে শোকের মাতম

ইতালি যাওয়ার পথে ভূ-মধ্যসাগরে নৌকা ডুবির ঘটনায় নিহত ১১ বাংলাদেশির মধ্যে ৩ জনের বাড়ি মাদারীপুরে। এদের মধ্য ১ জনের বাড়ি জেলার শিবচর উপজেলায়। বাকি ২ জনের বাড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকায়। এদিকে নিহতের খবর বাড়ি পৌঁছানোর পর শোকের মাতম উঠে পরিবারে। নৌকা ডুবির ঘটনায় ২৬ শিশুসহ এখনও ৬৪ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। নিহতদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

মাদারীপুরে নিহত ৩ জনের মধ্যে জেলার শিবচর পৌরসভার খানকান্দি এলাকার ইউনুস হাওলাদারের ছেলে আলী হাওলাদার। এছাড়া জেলার সাব্বিরসহ আরও একজন রয়েছে বলে জানা গেছে।

বুধবার বিকেলে সরেজমিনে যাওয়া হয় আলী হাওলাদারের শ্বশুর বাড়ি শিবচর উপজেলার ভান্ডারীকান্দি ইউনিয়নের ভান্ডারীকান্দি গ্রামে। সেখানে গিয়ে কথা হয় তার স্বজনদের সঙ্গে। তারা অনেকেই বিলাপে করতে করতে মূর্ছা যাচ্ছে। তাদের সকলের দাবী দ্রুত লাশ দেশে এনে তাকে জানাজা দিয়ে দাফন করার।

পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, আলী হাওলাদার ব্যাটারি চালিত অটো বাইকে চালাতেন। এছাড়াও তিনি মোবাইলের বিকাশের ও ফ্লেক্সিলোডের বিজনেস করতেন। আপন ভায়রা ভাইদের তিনজন বিদেশে থাকার সুবাদে আলীকে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সহযোগিতায় ধার দেনা করে পরিবারের স্বচ্ছলতার আশায় প্রায় মাদারীপুর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের একজন দালালের মাধ্যমে ১৬ লাখ টাকা খরচ করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগরপথে ইতালি যাত্রা করে। পরে তাকে সেখানে গেমে নেওয়ার কথা বলে শরিফ নামে এক মাফিয়ার কাছে বিক্রি করে দেয়। পরে সেখানে আরও ১১ লাখ টাকা খরচ হয়। মঙ্গলবার (১৮ জুন) লিবিয়া হয়ে ইতালি যাবার উদ্দেশ্যে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় সাগর পাড়ি দিতে গেলে দূর্ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু হয়। এই ১১ জনের মধ্যে মাদারীপুরের শিবচরের আলী হাওলাদার, সাব্বিরসহ তিনজন রয়েছে বলে জানা গেছে। এতে পরিবারজুড়ে চলছে শোকের মাতম।

নিহত আলীর মামা শ্বশুর আবদুস সালাম উকিল বলেন, গত মে মাসের শুরুতে আলী বাড়ি থেকে রওনা হয়। গতকাল আমরা ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পারি আলী নৌকা ডুবিতে মারা গেছে। তার রাফিন (৬) ও রাবেয়া (১) নামের ২ সন্তান রয়েছে। আমরা চাই আমাদের মেয়ের জামাইয়ের মরদেহটি দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে দাফন করার। এজন্য আমি সরকারের সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট সহায়তা চাই।

আলীর স্ত্রী চাচাতো ভাই বিপ্লব মাদবর বলেন, আমার বোনের স্বামী ভালো একজন মানুষ ছিলেন। তবে খুব অভাব ছিলো পরিবারে। নৌকায় লিখবি থেকে ইতালি যাওয়ার পথে তিনি নৌকার নিচে ছিলেন। সেখানে ইঞ্জিন বিস্ফোরিত হয়ে সে মারা যায়।

নিহত আলী হাওলাদারের স্ত্রী রোমেনা আক্তার জানান, ‘দেশে থাকাকালীন ইজিবাইক চালিয়ে সংসার চালাতো আলী। ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে গিয়ে এভাবে মৃত্যু হবে মেনে নিতে পারছি না। পরিবারে ৬ বছরের এক ছেলে ও এক বছরের এক মেয়ে রয়েছে। এখন সংসার চালানো দায়।’

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ‘নিহতের তথ্য এখনও পাইনি। তবে খোঁজ-খবর নিচ্ছি।’