বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফরিদপুরের সমন্বয়ক শাহ মো. আরাফাত বলেছেন, ‘ছাত্র ও জনতার ২৩ দিনের আন্দোলনে পতন হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের। এই বিজয় ছাত্রসমাজের, এখানে কোনও রাজনৈতিক দলের ফায়দা নেওয়ার সুযোগ নেই। কাউকে সে সুযোগ নিতে দেওয়া হবে না।’
বুধবার (০৭ আগস্ট) সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে আনন্দ শোভাযাত্রা, আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে দোয়া ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। সকাল ১০টার দিকে শহরের ভাঙ্গা রাস্তার মোড় থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়। ভাঙ্গা রাস্তার মোড় থেকে শুরু হয়ে হাজরাতলার মোড়, আলীপুরের মোড়, সুপার মার্কেটের মোড়, জেনারেল হাসপাতালের মোড়, ব্রহ্মসমাজ সড়ক হয়ে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের ক্যাম্পাসে গিয়ে শেষ হয় শোভাযাত্রা। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন শাহ মো. আরাফাত, জনি বিশ্বাস, আবরার নাইম ইতু, মারুফা মিম ও আলিফ বিন সাদিক প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘বাংলাদেশ আবারও স্বাধীন হয়েছে। শেখ হাসিনার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে তার টানা সাড়ে ১৫ বছরের শাসনের অবসান হলো। ছাত্রসমাজের এই অর্জিত স্বাধীনতা কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। এ ব্যাপারে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের বিজয় যেন হাতছাড়া হয়ে না যায়। এই আন্দোলন করেছে দেশের ছাত্রসমাজ ও জনতা। এই বিজয় কোনও রাজনৈতিক দলের দাবি করার সুযোগ নেই। কোনও রাজনৈতিক দলের ফায়দা নেওয়ারও সুযোগ নেই। আমরা সে সুযোগ দেবো না।’
শাহ মো. আরাফাত বলেন, ‘এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর বহু অত্যাচার করেছে। আমাদের আহত ও নিহত করেছে। পুলিশ দিয়ে একের পর এক মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে। আমাদের ৫৯ জন আন্দোলনকারী ছাত্রনেতাকে কারাগারে যেতে হয়েছে। বহু নির্যাতন, মামলা ও জেল-জুলমের পরও আমরা বিচলিত হইনি। বিজয় নিয়ে ঘরে ফিরেছি। নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছি। গত ১৬ জুলাই এই কলেজে থেকে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। এতে আমাদের অসংখ্য ভাইবোন অংশ নিয়েছিল। তারা তখন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছিল। আহতও হয়েছিল। এসব কারণে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য কলেজটি রাজনীতিমুক্ত করতে হবে। কোনও ছাত্র সংগঠন এই কলেজে আর রাজনীতি করতে পারবে না।’
আমাদের রাজেন্দ্র কলেজ ক্যাম্পাসকে নিরাপদ রাখতে হবে জানিয়ে শাহ মো. আরাফাত আরও বলেন, ‘যাতে আর কোনও অশুভ শক্তি দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে না পারে। রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়, এমন কোনও কর্মকাণ্ড করা যাবে না। এ ছাড়া চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে শপথবাক্য পাঠ করে নতুন দেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন মেহেরুন নিসা। আন্দোলনে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন মুফতী তানভীর আহমেদ।