ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় আওয়ামী লীগসহ দলটির অঙ্গসংগঠনের ৯৩ নেতাকর্মীকে আসামি করে আদালতে মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শহরতলীর বিরাসার এলাকার মো. সোলেমান বাদী হয়ে এই মামলা করেন। গত ৪ আগস্ট শহরতলীর বিরাসার এলাকায় ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে সোলেমানের আপন চাচাতো ভাই একই এলাকার বাসিন্দা রাশেদ মিয়াও আহত হয়েছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন, বিরাসার বড়গোষ্ঠীর বাসিন্দা ব্যবসায়ী বাবুল মিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক কাসেম মিয়া, নাটাই ইউনিয়নের সদস্য সাদ্দাম মিয়া, ছাত্রলীগ কর্মী জুবায়ের ও বিপ্লব, শহর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মঞ্জুর মাওলানা ওরফে ফারানি, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাসুম বিল্লাহ, শহর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আকবর হোসেন লিটন, শহর ছাত্রলীগের সভাপতি নাবিল, জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মিকাইল হোসেন ওরফে হিমেল, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মহসিন মোল্লা। বাকিরা শহরতলীর বিরাসার ও খৈয়াসার এলাকার বাসিন্দা।
সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফরহাদ রায়হান ভূইয়া মামলাটি তদন্তের জন্য সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আহত সোলেমান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় সদস্য। শেখ হাসিনা সরকার পতনের ১ দফা দাবির আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ও কর্মসূচি অনুযায়ী বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা গত ৪ আগস্ট বেলা ১১টা থেকে ১২টার দিকে শহরতলীর বিরাসার এলাকায় শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে জড়ো হন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সন্ত্রাসীরা ককটেল, বোমা, পিস্তল ও দা নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তারা কালো একটি ব্যাগ থেকে ছাত্র-জনতাকে উদ্দেশ করে মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণ করে। বোমার আঘাতে ছাত্র-জনতা ও জনসাধারণের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ সমাবেশকে ছত্র ভঙ্গ করার চেষ্টা করে তারা। এক পর্যায়ে তারা কোমর থেকে পিস্তল বের করে শান্তিপূর্ণ মিছিলে এলোপাতাড়ি গুলি করে। ছাত্রলীগকর্মী সাদ্দাম পিস্তল দিয়ে গুলি করলে সোলেমান গুলিবিদ্ধ হন।
এসময় অভিযুক্তরা ২০টি মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে অভিযোগ করে এজাহারে বলা হয়, এতে ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। সন্ত্রাসীরা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে বৈষম্যবিরোধী শান্তিপূর্ণ আন্দোলনটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
স্থানীয়রা আহত সোলেমানসহ অন্যান্য আহতদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার সোলেমানকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ঝর্ণা মুনমুন প্রথম সাংবাদিকদের বলেন, রবিবার দুপুরে আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।