মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফয়সালসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা হয়েছে।
সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার স্ত্রী রুমা বেগম বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় মামলাটি করেন। গত ৪ আগস্ট শহরের সুপার মার্কেট এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রিয়াজুল ফরাজী (৪৫) নামের এক দিনমজুর গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় এই মামলা হয়েছে।
মামলায় ২০৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসলাম খান।
সাবেক সংসদ সদস্য ছাড়াও মামলায় সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও চরকেওয়ার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন ভূঁইয়া, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ফয়সাল মৃধা, মিরকাদিম পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম শাহিন, গজারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদ খান, মুন্সীগঞ্জ মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন পরিযদের চেয়ারম্যান, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিপন হোসেন পাটোয়ারী, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সুরুজ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক লাকুম রাড়ী, ছাত্রলীগের সভাপতি নসিবুল ইসলাম নোবেল, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নাজমুল হাসানসহ ২০৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ৪ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের দাবিতে সুপার মার্কেট এলাকার কৃষি ব্যাংকসংলগ্ন স্থানে ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ অসহযোগ আন্দোলন চলছিল। ওই সময় সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফয়সালের নির্দেশে অস্ত্র, ককটেল, ছুরি, রামদা নিয়ে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা ছাত্রজনতার ওপর হামলা করেন। একপর্যায়ে ফয়সালের নির্দেশে শহর ছাত্রলীগের সভাপতি নসিবুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন গুলি চালান। মামলার অন্য আসামিরা তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। পরে ছাত্র-জনতার ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে চলে যান। পরবর্তীতে রিয়াজুল ফরাজীকে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। ওই দিন নুর মোহাম্মদ সরদার, মো. সজল মোল্লাসহ আরও দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।