গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের হামলায় নিহত স্বেচ্ছাসেবক দলের ক্রীড়া সম্পাদক শওকত আলী দিদারের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় গোপালগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে কর্তৃপক্ষ। পরিবারের পক্ষে লাশ বুঝে নেন নিহত দিদারের স্ত্রী রাবেয়া রহমান, শ্বশুর হাবিবুর রহমান, বোন মাফুজা আক্তার ও শ্যালক আব্দুর রহমান।
দিদারের শ্বশুর হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ঢাকার নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দিদারের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে বাদ মাগরিব জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হবে।’
হাবিবুর রহমান বলেন, ‘দিদার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তালিকাভুক্ত একজন আম্পায়ার ছিল। এ ছাড়া বাংলাদেশ আম্পায়ার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচিত আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ছিল। তার সাত বছর ও পাঁচ বছর বয়সী দুটি পুত্রসন্তান আছে। আমার জামাতাকে বর্বরোচিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের ওপর গোপালগঞ্জের আওয়ামী লীগের লোকজন যেভাবে আক্রমণ করেছে, গাড়ি ভাঙচুর করেছে, যা মধ্যযুগের বর্বরতাকে হার মানায়। আমি হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। মামলার বিষয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
গোপালগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক বিপ্লব কুমার পাল বলেন, ‘সুরতহাল করার সময় নিহতের বাঁ হাত, মাথার পেছনে ও ঘাড়ে জখমের চিহ্ন দেখতে পেয়েছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে আঘাতের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শরীফ রফিক উজ্জামান বলেন, শুক্রবার স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতির গাড়িবহরে যে হামলা হয়েছে, তা ছিল আওয়ামী লীগের পূর্বপরিকল্পিত। তারা একনায়কতন্ত্রে বিশ্বাসী। তারা বল প্রয়োগ করে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে চায়। এ হামলা ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মামলা হবে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনিচুর রহমান বলেন, ‘এখনও কোনও মামলা হয়নি। এলাকার পরিবেশ শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
এদিকে, হামলা ও হত্যার প্রতিবাদে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে উপজেলা বিএনপি। শনিবার বিক্ষোভ মিছিলটি ঘাঘর বাজার চৌরাস্তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঘাঘরকান্দা এলাকায় পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওলিউর রহমান হাওলাদারের বাড়িতে এসে শেষ হয়।
এর আগে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টায় সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া মোড়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানীর গাড়িবহরে হামলায় একই কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক শওকত আলী দিদার নিহত হন। বিএনপির অভিযোগ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালিয়েছেন। এতে সাংবাদিকসহ আরও অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের গোপালগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।