‘কতজনের বিচার হচ্ছে না, অথচ ২টা লাথির জন্য আমার ভাইকে গ্রেফতার করেছে’

‘আমার ভাই দোষী হলে, এখানকার সবাই দোষী। সবাই তাকে দুয়েকটা চড়–থাপ্পড় মেরেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শামীম মোল্লার মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হক রায়হানের ছোট ভাই সেজান আহসান। রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমার ভাইয়ের ওপর ছাত্রলীগ নির্যাতন করেছে, কত মানুষকে মেরেছে- তাদের কোনও বিচার হচ্ছে না অথচ আমার ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনার মূল অপরাধীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর আমার ভাই গ্রেফতার এটা অন্যায়। আমার পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে। আমাদের পরিবার ধ্বংস হওয়ার পথে। যেখানে সবাই মেরেছে, সেখানে দুইটা লাথি দেওয়ার অপরাধে আমার ভাইকে তিন নম্বর আসামি করা অন্যায়।’

রবিবার ভোরে গাজীপুরের রাজেন্দ্রনগর এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক। রায়হান ছাড়া না পেলে আত্মহত্যা ছাড়া উপায় থাকবে না বলে জানিয়েছেন রিকশাচালক বাবা কবির হোসেন।

তিনি বলেন, ‘রায়হান আমার জীবনের একমাত্র অবলম্বন। সে ইতিপূর্বে কোনও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল না। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সে সরাসরি অংশগ্রহণ করে। তাকে অনেক নিষেধ করার পরেও সে এই আন্দোলনে যায়। শামীম মোল্লা যিনি গণপিটুনিতে মারা গেছেন- তাকে মারধরে শুরুতে রায়হান ছিল না। সে প্রক্টর অফিসের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় লোকজন জড় হওয়া দেখে নামে এবং তখন সে দুটো লাথি দেয়। আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য শামীম মোল্লা তাকে কয়েকবার হুমকি ও মারধর করে। সে ক্ষোভ থেকেই হয়তো দুটা লাথি দিয়েছে। এতে তো সে হত্যা মামলার তিন নম্বর আসামি হতে পারে না। ছেলে যতটুকু অপরাধ করছে তার শাস্তি হোক। কিন্তু তাকে যেন অতিরিক্ত শাস্তি দেওয়া না হয়। আমার জীবনের সব আয় আমি তার পেছনে ইনভেস্ট করেছি। তার কিছু হলে আমার আত্মহত্যা ছাড়া আর উপায় থাকবে না।’

মা রেহানা পারভীন বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে রায়হানকে কোনও অপরাধের সঙ্গে জড়াতে দেখিনি। সে সবসময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করতো। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমার ছেলে অংশগ্রহণ করেছিল। ছাত্রলীগের ছেলেরা বিভিন্নভাবে তার ওপর অত্যাচার করেছে। শামীম মোল্লাকে যখন পিটুনি দেওয়া হয়েছিল, তখন রায়হান ওখানে ছিল না- পরে খবর পেয়ে সেখানে আসে এবং রাগের বশবর্তী হয়ে দুটা লাথি দেয়। দুইটা লাথি দেওয়ার কারণে আমার ছেলে হত্যা মামলার আসামি হতে পারে না। দুইটা লাথির যতটুকু শাস্তি হয় ততটুক শাস্তি আপনারা তাকে দিন। এ ছাড়াও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে প্রায় ১৫০০ মানুষ মারা গেছে, তার কোনও বিচার এখনো প্রশাসন করতে পারেনি। আর এতটুক একটা অপরাধের কারণে আমার ছেলে হত্যা মামলার তিন নম্বর আসামি হতে পারে না। আমি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এই মামলার বিচার চাই।’

উল্লেখ্য, ১৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জয়বাংলা গেট এলাকা থেকে শামীম মোল্লাকে ধরে মারধর শুরু করে। এরপর তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় তাকে হস্তান্তর করে। শিক্ষার্থীদের মারধর থেকে বাঁচাতে তাকে নিরাপত্তা অফিসে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। তবে সেখানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তালা ভেঙে প্রবেশ করে তাকে কয়েক দফা মারধর করে। একপর্যায়ে পুলিশ এলে তাকে পুলিশ হস্তান্তর করা হয়। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শামীম মৃত্যুবরণ করেন।