ঝুট ব্যবসার দখল নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, হামলা-ভাঙচুর

গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি কারখানার ঝুট ব্যবসার দখল নিয়ে স্থানীয় যুবদল ও কৃষক দলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করে কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করেছে। সেইসঙ্গে ওই কারখানার সামনে ৮-১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। 

বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার মাওনা চৌরাস্তার দক্ষিণ পাশে ২ নম্বর সিঅ্যান্ডবি সংলগ্ন এসকিউ গ্রুপের এসকিউ সেলসিয়াস লিমিটেড সোয়েটার কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসকিউ সেলসিয়াস সোয়েটার কারখানার ঝুট ব্যবসার ওয়ার্ক অর্ডার নিয়ে শ্রীপুর পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম পলাশ চঞ্চল বুধবার সকালে কারখানা থেকে ঝুট বের করতে যান। এ সময় জেলা কৃষক দলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদের লোকজন বাধা দেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করে রাখেন তারা। ভাঙচুর করা হয় বেশ কয়েকটি গাড়ি। ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হন দুই পক্ষের পাঁচ-ছয় জন।

এসকিউ সেলসিয়াস লিমিটেডের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান জয়নাল আবেদীন জানান, এসকিউ গ্রুপের ঝুট ব্যবসার জন্য স্থানীয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ক অর্ডার জমা দেয়। তাদের মধ্যে থেকে চঞ্চল এন্টারপ্রাইজের মালিক এসএম পলাশ চঞ্চলকে ওয়ার্ক অর্ডার দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে বিক্ষুব্ধ হয় অপরপক্ষ।

আবুল কালাম আজাদের লোকজনের দাবি, এসকিউ গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক নিয়াজ এলাহী খান মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে চঞ্চল এন্টারপ্রাইজকে ওয়ার্ক অর্ডার দিয়েছেন। এর জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। এতদিন কারখানা ভালোভাবেই চলছিল। কর্তৃপক্ষ সুষ্ঠুভাবে ঝুট বণ্টন না করায় পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়েছে।

তবে চঞ্চল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এসএম পলাশ চঞ্চল বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ আমাকে ওয়ার্ক অর্ডার দেয়। সে অনুযায়ী বুধবার সকালে ঝুট বের করার জন্য দুটি পিকআপ কারখানায় প্রবেশ করে। সকাল ১০টার দিকে অপরপক্ষের আবুল কালামের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে কারখানার সামনে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে তারা কারখানার সামনে আমার অফিসে হামলা-ভাঙচুর চালায়। ৮-১০টি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসএম আবুল কালাম আজাদ বলেন, এসকিউ সেলসিয়াস লিমিটেডের ঝুট ব্যবসা পাওয়ার জন্য আমি কোনও আবেদন জমা দিইনি। কারখানা কর্তৃপক্ষ এরকম কোনও কাগজ দেখাতে পারবে না। আমার বিরুদ্ধে হামলার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সঠিক নয়। আমি বর্তমানে ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় আছি। কে বা কারা সেখানে হামলা করেছে, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

টাকার বিনিময়ে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে এসকিউ গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) নিয়াজ এলাহী খানকে একাধিকবার কল দিলেও ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল অবেদীন মন্ডল বলেন, যুবদল নেতা এসএম পলাশ এবং কৃষক দল নেতা আবুল কালাম আজাদের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তবে কারখানায় ভাঙচুরের কোনও ঘটনা ঘটেনি। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে কারখানায় উৎপাদন চলমান আছে।’