বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগে মামলা

কিশোরগঞ্জে আ.লীগের ৫ নেতা গ্রেফতার, দুজনের জামিন

কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ দলের পাঁচ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও র‌্যাবের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী। মঙ্গলবার রাত ও বুধবার সকালে তাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার বিকালে আদালতে হাজির করলে দুজনের জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমএ আফজল, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এনায়েত করিম অমি, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শামছুল ইসলাম খান মাসুম, তাড়াইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক মোতাহার এবং সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন লাকি। এর মধ্যে প্রথম তিন জনকে জেলা সদরের বাসা এবং বাকি দুজনকে তাড়াইলের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। জামিনপ্রাপ্ত দুজন হলেন- এনায়েত করিম অমি ও শামছুল ইসলাম খান মাসুম।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘সদরের বাসা থেকে তিন আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। গত ৪ আগস্ট শহরের খড়মপট্টি এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা, বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার ও হত্যা মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।’ 

তবে গ্রেফতারকৃত নেতাদের স্বজনরা বলছেন, কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগে করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন তারা।

অপরদিকে তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল মিয়া বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুল হককে উপজেলার ধলা ইউনিয়নের কলমা গ্রাম থেকে ও গিয়াস উদ্দিনকে তাড়াইল-সাচাইল ইউনিয়নের কালনা গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। 

পুলিশ বলছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলন ঘিরে কিশোরগঞ্জ সদরে সহিংসতার ঘটনায় তিন মামলায় সদরের তিন নেতাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে তাড়াইলের দুই নেতাকে সদর থানায় করা সহিংসতার এক মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়।

আদালত সূত্র জানিয়েছে, দুপুরে তাদের কিশোরগঞ্জ আদালতে হাজির করা হয়। জামিন শুনানির পর আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ ভদ্র দুজনের জামিন মঞ্জুর করে বাকিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।