বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট ঢাকার চানখারপুলে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান মুন্সীগঞ্জের ছাত্রদল নেতা মানিক মিয়া শাহারিক চৌধুরী (২৬)। এ ঘটনায় রাজু আহমেদ (৩০) নামে একজন বাদী হয়ে ঢাকার সিএমএম আদালতে শেখ হাসিনাসহ ৭৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। আদালত ঢাকার শাহবাগ থানাকে মামলাটি এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন।
মামলায় নিহতের বাবা আনিস চৌধুরীকে ২ নম্বর সাক্ষী করা হয়েছে। কিন্তু নিহতের বাবার দাবি, মামলার বাদীকে তিনি চেনেন না।
আনিস চৌধুরী বলেন, ‘আমার ছেলের হত্যার বিচার আমি চাই। সেক্ষেত্রে আমি নিজে বাদী হয়ে মামলা করবো। কিন্তু রাজু নামের যে ব্যক্তি মামলা করেছে সে আমাদের কোনও আত্মীয় নন। তাকে আমরা চিনিও না। মামলার নথিতে দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী আমরা মিরপুরে গিয়ে খোঁজ নিয়েছি। কিন্তু সে ঠিকানায় রাজু নামের কেউ থাকে না।’
সে মামলায় অনেক নিরীহ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘ওই মামলার কারণে পুলিশ নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানি করতে পারে। তাই গত ৫ অক্টোবর আমি মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি।’
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি খলিলুর রহমান জানান, নিহতের বাবা এ বিষয়ে একটি জিডি করেছেন। সেটা ওই মামলায় নথিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে মামলা যেটা হয়েছে সেটা আদালতের নির্দেশনা অনুসারে চলবে।
উল্লেখ্য, নিহত শাহারিক মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম পৌরসভা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ছিলেন।
এই মামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান, মুন্সীগঞ্জ সদর-৩ আসনের সাবেক এমপি মৃণাল কান্তিদাসসহ মুন্সীগঞ্জ সদর, মিরকাদিম পৌরসভা, ঢাকা, লক্ষ্মীপুর ও নীলফামারীর ৭৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে মিরকাদিম পৌরসভার কয়েকজন বিএনপি সমর্থক নেতাকর্মীও রয়েছেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করেন।