দুই ইউপি সদস্যকে রশি দিয়ে বেঁধে পেটালেন যুবদল নেতা, নিয়ে গেলেন সোনার চেইন

রাজবাড়ী সদর উপজেলার এক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) দুই সদস্যকে (মেম্বার) রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করেছেন রায়হান খান নামের এক যুবদল নেতা। ভুক্তভোগীদের একজন নারী ইউপি সদস্য অপরজন পুরুষ।

গত বৃহস্পতিবার রাতে বসন্তপুর ইউনিয়নের মহারাজপুর ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার তাদের নির্যাতনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ ঘটনায় শনিবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে রাজবাড়ী সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী সদস্য।

তার অভিযোগ, যুবদলের স্থানীয় এক নেতা ও তার সহযোগীরা মারধর এবং নির্যাতন করেছেন। অভিযুক্ত রায়হান খান বসন্তপুর ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে রায়হানসহ চার-পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ইউপি সদস্যকে রশি দিয়ে বেঁধে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করছেন যুবদল নেতা রায়হান খান। তার সঙ্গে আরও দুই যুবক মারধরে অংশ নেন। মারধরে ওই নারী ‘আল্লাহ আল্লাহ’ বলে চিৎকার করছেন। পেটানোর পাশাপাশি তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে নারী সদস্যের গলার সোনার চেইন খুলে নেন। চেইন খোলার সময় তাকে বলতে শোনা যায়, এটি বিয়ের সময় আমার স্বামী দিয়েছেন। তখন পাশ থেকে আরেক যুবক তেড়ে এসে তাদের মারধর শুরু করেন। তখনও আশপাশে অনেকে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কয়েকজনকে মারধরের দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করতে দেখা যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই নারী ইউপি সদস্যের সঙ্গে দুর্গাপূজা দেখতে যান আরেক পুরুষ ইউপি সদস্য। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওই নারীকে মোটরসাইকেলে করে বাড়িতে নামিয়ে দিতে আসেন তিনি। এ সময় রায়হান ও তার লোকজন পরকীয়ার অভিযোগ এনে দুই সদস্যকে তুলে নিয়ে যান স্থানীয় মহারাজপুর ব্রিজ এলাকার একটি দোকানে। সেখান দুজনকে একই রশিতে বেঁধে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ওই নারীর গলার সোনার চেইন খুলে নেওয়ার পাশাপাশি দুজনের মোবাইল ছিনিয়ে নেন রায়হান। মারধরে অসুস্থ হয়ে বর্তমানে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ভুক্তভোগী নারী সদস্য। এরই মধ্যে মারধরের ঘটনার ৫ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও শুক্রবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

এ ব্যাপারে জানতে দুই ইউপি সদস্যের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিয়ে বন্ধ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত যুবদল নেতা রায়হানের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি।

রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ আল রাজীব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ ঘটনায় নারী ইউপি সদস্য থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’