টহল পুলিশকে বেঁধে রেখে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি, ২ জন গুলিবিদ্ধ

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার দাসের জঙ্গল বাজারে ৪টি স্বর্ণের দোকানসহ ৬টি দোকানে ডাকাতি হয়েছে। এই ঘটনায় এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীসহ ২ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ডাকাতরা সোনা, রূপা, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকাসহ অনুমান প্রায় অর্ধ কোটি টাকার মালামাল নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি এবং লুণ্ঠিত মালামালও উদ্ধার করতে পারেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত ১টার দিকে ৫০/৬০ জনের মুখোশধারী সশস্ত্র ডাকাত দল বাজারে টহলরত তিন পুলিশ সদস্যের মধ্যে দুইজনকে বেঁধে ফেলে। এসময় এক পুলিশ সদস্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।এরপর দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীদের বেঁধে রেখে ৪টি স্বর্ণের দোকান, ১টি মোবাইলের দোকান ও ১টি মুদির দোকানে ডাকাতি করে।এ সময় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সুকুমার কর্মকার নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গুলি করে এবং অরুন দাস নামে আরেক জনকে পিটিয়ে আহত করে। আহত সুকুমার কর্মকারকে গোসাইরহাট হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন ও গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সগীর হোসেন সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

লুট হওয়া দোকানগুলো হচ্ছে জীবন কর্মকারের জনক অলঙ্কার, লক্ষণ কর্মকারের আরকে গিনি হাউজ, শিবু কর্মকারের অলঙ্কার নিকেতন জুয়েলার্স, সুধাংশু কুমারের স্বর্ণের দোকান, আলমগীর হোসেনের মোবাইলের দোকান ও অরুণ কৃষ্ণ দাসের মুদি দোকান।

গোসাইরহাট বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুধাংশু কুমার জানান, ৪টি স্বর্ণের দোকানের স্বর্ণ, রূপা ও নগদ টাকা এবং মোবাইল ও মুদি দোকানের নগদ টাকা ও মালামালসহ প্রায় অর্ধ কোটি টাকার মালামাল লুট হয়েছে।

ডাকাতির ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জনক অলঙ্কারের মালিক জীবন কর্মকার বলেন, ডাকাতি করতে বাধা দেওয়ায় ডাকাতরা আমার বোনের ছেলে সুকুমার কর্মকারকে গুলি করেছে। ডাকাতরা এক ঘণ্টা ধরে বাজারে লুটপাট চালায়। অথচ বাজার থেকে থানার দূরত্ব মাত্র ১শ’ মিটার। অথচ পুলিশ কিছুই টের পায়নি। ডাকাতরা বাজারে ঢোকার পর এক টহল পুলিশ পালিয়ে গিয়েছিল। অথচ সেও কিছু জানায়নি। এটা রহস্যজনক।

এ বিষয়ে গোসাইরহাট থানার ওসি মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ৫০/৬০ জন ডাকাত সশস্ত্র অবস্থায় বাজারে ডাকাতি করছিল। বিষয়টি আমাদের পালিয়ে আসা পুলিশ সদস্য জানালে আমরা স্থানীয়দের নিয়ে বাজারের দিকে অগ্রসর হই। তখন ডাকাতরা পালিয়ে গেছে।

/জেবি/টিএন/