১০ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন বেক্সিমকোর শ্রমিকরা, মানুষের দুর্ভোগ

গাজীপুর নগরে বকেয়া বেতনের দাবিতে আবারও সড়ক অবরোধ করেছেন বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের শ্রমিকরা। সোমবার (২৫ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে চন্দ্রা-নবীনগর মহাসড়কের চক্রবর্তী এলাকায় অবরোধ করেন তারা। অবরোধের কারণে সন্ধ্যা সোয়া ৭টা ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে যানজটে আটকা পড়ে ১০ ঘণ্টার বেশি সময়ে ধরে ভোগান্তিতে পড়েছেন এই সড়কে যাতায়াতকারীরা।

শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অক্টোবর মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে টানা সাত দিন চন্দ্রা-নবীনগর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। গতকাল রবিবার বেতন দেওয়া হবে, এমন আশ্বাস পেয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে অবরোধ তুলে নেন তারা। কিন্তু রবিবার অনেক শ্রমিক বেতন পাননি। আবার অনেকে পেয়েছেন। যারা পাননি তারা সোমবার সকাল থেকে আবারও আন্দোলনে নেমেছেন।

শিল্প পুলিশ ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানাধীন সারাবো এলাকার বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে পোশাক কারখানার শ্রমিকরা অক্টোবর মাসের বেতন পাননি। বেতনের দাবিতে ১৪ নভেম্বর থেকে আন্দোলন শুরু করেন তারা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে অনেক শ্রমিকের মোবাইলে বেতনের টাকা পাওয়ার খুদে বার্তা পাঠায় কর্তৃপক্ষ। টাকা পেয়ে ওই দিন রাত পৌনে ৮টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করেন তারা। শ্রমিকরা সরে গেলে চন্দ্রা-নবীনগর সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। গত শুক্র ও শনিবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। 

রবিবার সারা দিন অপেক্ষা করেও অনেক শ্রমিক বেতন পাওয়ার খুদে বার্তা না পেয়ে সন্ধ্যায় আবারও সড়ক অবরোধ করেন। পরে রাতে তারা সড়ক থেকে সরে যান। সোমবার সকাল ৯টা থেকে আবারও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন। যা সন্ধ্যা সোয়া ৭টা পর্যন্ত চলছিল।

অবরোধের কারণে চন্দ্রা-নবীনগর সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সড়ক ব্যবহারকারীরা ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশায় যাতায়াত করছেন। উত্তরবঙ্গের দূরপাল্লার যানবাহন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর এবং কালিয়াকৈর থেকে ধামরাই আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে ঢাকায় যাতায়াত করছে।

কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কিছু শ্রমিক বেতন পেয়েছেন। অনেকে এখনও বকেয়া বেতন পাননি। সড়ক অবরোধ করায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চন্দ্রা-নবীনগর সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।’