সাদের ইজতেমা ঠেকাতে জুবায়ের অনুসারীদের সড়ক অবরোধ, আহত ২

গাজীপুরের টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীদের পাঁচ দিনের জোড় ইজতেমা ঠেকাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন মাওলানা জুবায়ের অনুসারীরা। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে টঙ্গীর স্টেশন রোড এলাকায় এ বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় সাদ অনুসারীদের একটি গাড়ি ভাঙচুর করেন তারা। এতে সাদ অনুসারীদের দুজন আহত হন।

আহতরা হলেন সাদ অনুসারীদের ইজতেমা আয়োজক কমিটির মুরুব্বি মাওলানা বসির (৫) ও মাওলানা আতাউর (৫২)। তাদের রাজধানীর উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে পুলিশের অনুরোধে জুবায়েরের অনুসারীরা আধা ঘণ্টা পর সড়ক ছেড়ে ইজতেমা মাঠে চলে যান।

পুলিশ ও সাদ অনুসারীরা জানান, ২৯ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত জুবায়ের অনুসারীদের তত্ত্বাবধানে জোড় ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০ থেকে ২৪ ডিসেম্বরে দ্বিতীয় ধাপে জোড় ইজতেমা আয়োজনের অনুমতি চান সাদের অনুসারীরা। কিন্তু সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে তাদের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সাদ অনুসারীদের ইজতেমা আয়োজক কমিটির কয়েকজন মুরুব্বি ইজতেমা মাঠের পশ্চিম অংশে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় জুবায়ের অনুসারীরা তাদের বাধা দেন। পুলিশের সহযোগিতার জন্য সাদ অনুসারীরা টঙ্গী পূর্ব থানায় আসেন। পরে পুলিশের সহায়তায় তারা ইজতেমা মাঠের দিকে রওনা হন। আগে থেকেই লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান করা জুবায়ের অনুসারীরা মন্নু গেট এলাকায় সাদ অনুসারীদের একটি প্রাইভেট কারের গ্লাস ভাঙচুর করেন। এতে প্রাইভেটকারে থাকা সাদ অনুসারীদের দুজন আহত হন। সহকর্মীরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন।

জুবায়ের অনুসারী ইজতেমা আয়োজক কমিটির মুরুব্বি মাহফুজ হান্নান বলেন, ‘সাদের অনুসারীরা বিদেশি মেহমানখানায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। তারা ইজতেমা আয়োজনের অনুমতি না পেয়ে অবৈধভাবে মাঠে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করেছেন। পরে আমাদের সাথিরা তাদের বাধা দেন।’

সাদ অনুসারী ইজতেমা আয়োজক কমিটির গণমাধ্যম সমন্বয়ক মুহাম্মদ সায়েম বলেন, ‘২০ ডিসেম্বর দ্বিতীয় ধাপের জোড় ইজতেমা আয়োজনের অনুমতি চেয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটনের উপ-পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে যাচ্ছিলাম আমরা। পরে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করি। আমরা মাঠে প্রবেশ করিনি। তারা আমাদের প্রাইভেটকারে হামলা করে ভাঙচুর করেন। এতে দুজন আহত হন।’

গাজীপুর মেট্রোপলিটনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘মাওলানা জুবায়ের অনুসারীরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে ২০১৮ সালের সাদ অনুসারীদের হামলার বিচারের দাবি জানান। এ সময় তারা সাদ অনুসারীদের একটি প্রাইভেটকার ভাঙচুর করেন। পুলিশ গিয়ে তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।’