গাজীপুরের শ্রীপুরে ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর (১৪) মামলা নিতে গড়িমসি ও ভুক্তভোগীর বাবার কাছে সাত হাজার টাকা ঘুষ অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। অবশেষে ঘটনার পাঁচ দিন পর মামলা নিয়েছে পুলিশ। রবিবার রাতে মামলার বিষয়টি জানিয়েছেন শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন মন্ডল। তিনি বলেন, ‘১৩ ডিসেম্বর রাতে একজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা হয়েছে।’
ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বাবা অভিযোগ করে বলেছেন, মেয়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও হাসপাতালে যাওয়ার খরচ হিসেবে শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল কুদ্দুস আমার কাছে সাত হাজার টাকা ঘুষ চেয়েছেন।
এর আগে ৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত সৈকত জাহিদ (২০) রাজাবাড়ী ইউনিয়নের হালুকাইদ গ্রামের জালালের ছেলে। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘এক মাস আগে ফেসবুকে সৈকতের সঙ্গে মেয়ের পরিচয় হয়। সেই সূত্রে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ৮ ডিসেম্বর দেখা করার কথা বলে ডেকে নিয়ে মেয়েকে ধর্ষণ করে সৈকত। ধর্ষণে তাকে সহযোগিতা করেছে তিন-চার জন সহযোগী। পরে মেয়েকে রেখে পালিয়ে যায় তারা। ১০ ডিসেম্বর থানায় মামলা করতে গেলে ওসি বলেন, ঘটনার সাক্ষী-প্রমাণ নেই। এই মামলা নেওয়া যাবে না। ওই দিন রাত ১০টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে থানা থেকে চলে আসি। ১১ ডিসেম্বর বিকালে মেয়েকে নিয়ে আবার থানায় যাই। ওই দিন রাত ১০টার দিকে থানার এসআই আব্দুল কুদ্দুসকে ঘটনাস্থলে পাঠান ওসি। এ সময় এসআই কুদ্দুস আমার কাছে মেয়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও হাসপাতালে যাওয়ার খরচের জন্য সাত হাজার টাকা ঘুষ চান। পরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার কথা বলে ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর দুদিন মেয়েকে থানায় রেখে দেয় পুলিশ। আমি বাড়িতে চলে আসি। পরদিন আমাকে বাড়ি থেকে ডেকে মেয়েকে আমার কাছে দিয়ে দেয় পুলিশ। রবিবার আবারও স্বাস্থ্য পরীক্ষার কথা বলে থানায় নিয়ে যেতে বলে। আমার মেয়ে এখনও থানায় রয়েছে।’
এ বিষয়ে শ্রীপুর মডেল থানার এসআই আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘ভুক্তভোগীর বাবার কাছে ঘুষ চাওয়া হয়নি। ওসি স্যারের নির্দেশে ১১ ডিসেম্বর রাতে আমি এক ঘণ্টার জন্য ঘটনাস্থলে তদন্তে গিয়েছিলাম। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেয়ে ওসি স্যারকে জানালে ১৩ ডিসেম্বর মামলা নথিভুক্ত করা হয়।’
মামলা নিতে গড়িমসির কারণ জানতে চাইলে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন মন্ডল বলেন, ‘ভুক্তভোগীর বাবা ১৩ ডিসেম্বর থানায় মামলা করার জন্য আসেন। এর আগে তার সঙ্গে আমার দেখা হয়নি। দেরিতে মামলা নেওয়া ও গড়িমসির অভিযোগ সঠিক নয়। ভুক্তভোগী ছাত্রী শ্রীপুর থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। আগামীকাল সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) তাকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।’